পটনা : বিহারের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিতে চলেছেন নীতীশ কুমার ? এনিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে বিহারের রাজনীতিতে। কারণ, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, নীতীশ কুমারকে রাজ্যসভায় পাঠাতে চায় বিজেপি। যদিও এনিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন জনতা দল (ইউনাইটেড) নেতৃত্ব।

Continues below advertisement

আগামীকাল ৫ মার্চই মনোনয়ন জমা দিতে পারেন নীতীশ কুমার। এমনই চর্চা শুরু হয়েছে। এও শোনা যাচ্ছে যে তাঁর কাগজপত্র রেডি হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে ওয়াকিবহাল মহল দাবি করছে, নীতীশ কুমার যদি জাতীয় রাজনীতিতে চলে যান, তাহলে বিহারে মুখ্যমন্ত্রীর পদ দাবি করতে পারে বিজেপি। এনডিএ-তে ক্ষমতা ভাগাভাগির ফর্মুলায় এই রদবদলের সম্ভাবনা রয়েছে।

যদিও এই জল্পনাও ছড়িয়েছে যে, নীতীশ-পুত্র নিশান্ত কুমারকেও রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে তাঁকে কোথায় দেখা যাবে তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। এর আগে বিভিন্ন মহলে দাবি করা হয়েছিল যে, রাজ্যসভা দিয়ে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করতে পারেন নিশান্ত। কিন্তু, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের এখনকার রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁকে বিহারের উপ মুখ্যমন্ত্রীর পদে ভাবা হতে পারে।

Continues below advertisement

শেষ অনুষ্ঠিত বিহার বিধানসভা নির্বাচনে এনডিএ জয়লাভ করে। ২৪৩ আসনের মধ্যে ২০২টিতেই জয়ী হয় তারা। সবথেকে বেশি আসন পায় বিজেপি। ৮৯টি। এরপরেই জেডিইউ। তাদের ঝুলিতে আসে ৮৫টি আসন। কেন্দ্রীয়মন্ত্রী চিরাগ পাসওয়ানের LJP(RV) পায় ১৯টি। বাকি ৯টি আসনে জয়ী হয় হিন্দুস্তানি আওয়ামি মোর্চা (HAM) ও রাষ্ট্রীয় লোক মোর্চার (RLM)-এর মতো দলগুলি। অন্যদিকে, আরজেডি নেতৃত্বাধীন মহাজোট ৩৫টি সিটে জিততে সক্ষম হয়। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রত্যাবর্তন ঘটলেও, সম্প্রতি বড় বিতর্কে জড়ান নীতীশ কুমার। সরকারি অনুষ্ঠানে এক তরুণীর নকাব টেনে খুলে ফেলা নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। বিরোধী শিবিরের রাজনীতিকরা এনিয়ে নিন্দায় সরব হয়েছেন। 

গত ডিসেম্বরে পটনায় আয়োজিত সরকারি অনুষ্ঠানে সার্টিফিকেট বিলি করছিলেন নীতীশ। এক তরুণী চিকিৎসক সার্টিফিকেট নিতে এলে মহিলাকে মুখের নকাব খুলতে ইশারা করেন। তবে ওই তরুণী কিছু বুঝে ওঠার আগে, নীতীশ নিজেই তাঁর নকাব টেনে খুলে দেন। তরুণী চিকিৎসকের মুখের অংশ অনাবৃত হয়ে যায়। গোটা ঘটনায় নীতীশের সহযোগীরা পর্যন্ত অস্বস্তিতে পড়ে যান। যদিও নীতীশ নির্বিকার ছিলেন। হাসি ধরে রেখেছিলেন মুখে। সোশাল মিডিয়ায় ওই ভিডিও ছড়িয়ে পড়তে সময় লাগেনি। সকলেই নীতীশের সমালোচনা করেন, তাঁর মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।