ভুবনেশ্বরে: পৃথিবীর চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি এখনও হয়নি ভারত। তবে উদযাপন শুরু হয়ে গিয়েছে এখন থেকেই। আর সেই আবহেই দেশের মধ্যে থেকে অন্য এক ভারতের ছবি উঠে এল। অন্য জাতের ছেলেকে বিয়ে করায় এক তরুণীর গোটা পরিবারকে শাস্তি দেওয়া হল। মাথা মুড়িয়ে দেওয়া হল পরিবার, জ্ঞাতি মিলিয়ে প্রায় ৪০ জনের। (Odisha Inter Caste Marriage)
পশ্চিমবঙ্গের পড়শি রাজ্য, ওড়িশার রায়গড় জেলার কাশীপুর ব্লক থেকে এই ঘটনা সামনে এসেছে। বৃহস্পতিবার মাথা মুড়িয়ে দেওয়া হয় ৪০ জনের। শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাজে ফের ফেরত নেওয়া হয় তাঁদের। বিষয়টি সামনে আসতেই নিন্দার ঝড় উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। বিজেপি শাসিত রাজ্যে পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। (Family Forced to Tonsure Heads)
জানা গিয়েছে, তফসিলি জনজাতি পরিবারের এক তরুণী সম্প্রতি তফসিলি জাতি পরিবারের এক ছেলেকে বিবাহ করেন। দীর্ঘ দিন ধরে সম্পর্ক ছিল তাঁদের। কিন্তু তাঁদের বিয়েতে মত ছিল না কারও। শেষ পর্যন্ত পরিবারের অমতেই তাঁরা বিয়ে করেন। আর সেই থেকেই গ্রামে প্রায় একঘরে হতে হয় তাঁর পরিবার ও জ্ঞাতিদের। রীতিমতো সালিশি সভা বসিয়ে বিচার শুরু হয় ওই পরিবারের। ওই তরুণী সামাজিক রীতি ভেঙেছেন, তাই পরিবার ও জ্ঞাতিদের তার মাশুল দিতে হবে বলে নিদান দেন মোড়লরা।
সেই মতো ওই তরুণীর পরিবার, জ্ঞাতি মিলিয়ে ৪০ জনের মাথা মুড়িয়ে দেওয়া হয়। শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়ার মধ্যে রাখা হয় পশুবলিও। ছাগল, মুরগি বলি দেওয়া হয়। ভোজ খাওয়াতে হয় গোটা গ্রামকে। পরিবারের সদস্যদের মাথা মোড়ানোর ওই ভিডিও ছড়িয়ে পড়তে সময় লাগেনি। এই ধরনের আচরণ নাগরিকের ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার, সামাজিক ন্যায়ের অধিকারের পরিপন্থী বলে মত সমাজকর্মীদের।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শুদ্ধিকরণে রাজি না হলে একঘরে হতে হবে, সমাজ থেকে বহিষ্কার করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয় মেয়েটির পরিবার ও জ্ঞাতিদের। তাতেই তাঁরা মাথা মোড়াতে, শুদ্ধিকরণে রাজি হন। বিষয়টি নিয়ে শোরগোল পড়ে যাওয়ার পর স্থানীয় BDO বিজয় সয় জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রামে একটি প্রতিনিধি দলও পাঠানো হয়। কিন্তু পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, কেউ জোর করেনি তাঁদের। স্বেচ্ছায় শুদ্ধিকরণে অংশ নেন তাঁরা। কিন্তু ভয়েই তাঁরা একথা বলতে বাধ্য হচ্ছেন বলে মত নেটিজেনদের।
এর আগে, চলতি বছরের শুরুতেই ওড়িশার এক পরিবারকে এক ব্যক্তির শেষকৃত্যের অনুমতিও দেওয়া হয়নি। তিনি অন্য জাতের মেয়েকে বিয়ে করেন বলেইউ শেষকৃত্য করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। ওড়িশায় একটি ভিন্ ধর্ম বা ভিন্ন জাতের যুগলদের বিয়ের জন্য সরকারি প্রকল্পও রয়েছে, যেখানে ২.৫ লক্ষ টাকা অর্থ সাহায্য় দেওয়ার নিদান রয়েছে। কিন্তু হেনস্থা, হয়রানি শেষ হয়নি তাতেও।