ভুবনেশ্বর : আর জি করকাণ্ডের এক বছর। ঠিক এক বছর আগে এই দিনেই কর্তব্যরত তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় শিউরে উঠেছিল গোটা রাজ্য। যে ঘটনার প্রতিবাদে এদিন নবান্ন অভিযান ঘিরে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হল। অভিযানে শামিল হয়ে আঘাত পেলেন বাবা-মা। আর এই আবহে পড়শি রাজ্য ওড়িশা থেকে সামনে এল একইরকম একটি ভয়ানক ঘটনা। একটি বেসরকারি হাসপাতালের বাথরুম থেকে রহস্যজনকভাবে দেহ উদ্ধার হল এক নার্সের। কর্তব্যরত অবস্থায় তাঁর দেহ উদ্ধার হল। শুক্রবার ভুবনেশ্বরের চন্দ্রশেখরপুর এলাকার বেসরকারি হাসপাতালে ঘটনাটি ঘটে। ঘটনা সামনে আসার পর হতবাক হয়ে গেছেন নার্সের সহকর্মী ও রোগীরা। মৃত নার্স গঞ্জাম জেলার ঘটনা।

খবর অনুযায়ী, হাসপাতালে ডিউটিতে ছিলেন ওই নার্স। স্টেশনে ফিরে না আসায় অন্যান্য স্টাফরা হাসপাতাল চত্বরে খুঁজে দেখেন। স্টাফ বাথরুমে তাঁকে অসাড় অবস্থায় পাওয়া যায়। কিছুক্ষণ পরেই তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় চন্দ্রশেখরপুর থানার পুলিশ। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে তারা। তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে প্রকৃত কারণ জানতে তাঁর মৃতদেহের ময়নাতদন্ত হবে। মেয়ের এভাবে আচমকা মৃত্যুতে স্বভাবতই হতবাক তাঁর পরিবার। বিশ্বাসই করতে পারছেন না মা।

তাঁর বক্তব্য, "মেয়ের স্বাস্থ্য ভালই ছিল। কোনও শারীরিক জটিলতা ছিল না।" এই পরিস্থিতিতে ঘটনার প্রকৃত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁর মা। যেহেতু কর্তব্যরত অবস্থায় ঘটনাটি ঘটেছে। তিনি বলেন, রাত দেড়টা নাগাদ মেয়ে ওয়াশরুমে গিয়েছিল। বলা হচ্ছে, "ওর পা পিছলে গিয়েছিল, তারপর পড়ে যায় এবং অচেতন হয়ে পড়ে। ওরা (হাসপাতাল) রাত সাড়ে ৩টে নাগাদ আমাদের ফোন করে। ফোন করে বলে, আমাদের মেয়ে অচেতন হয়ে পড়েছে। সেখানে গিয়ে দেখি আমাদের সামনে মেয়ের মৃতদেহ পড়ে রয়েছে।"

নার্সের ভাই জানাচ্ছেন, তাঁদের ফোনে কথা হয়েছিল। তিনি জানিয়েছিলেন, ডিউটি শেষে রাখি বন্ধনের জন্য গঞ্জাম জেলার বাড়িতে ফিরবেন। এই পরিস্থিতিতে ঘটনার সবদিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ঘটনাটি দুর্ঘটনাবশত মৃত্যু, নাকি স্বাস্থ্য সমস্যা, নাকি ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়, নাকি কর্মস্থলে হেনস্থা, নাকি পারিবারিক বিবাদের জের, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনার পর ওই হাসপাতালে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গত ৩০ মে একইভাবে কটকে রহস্যজনক অবস্থা উদ্ধার হয়েছিল এক নার্সের দেহ।