নিজেদের গয়নাগাটি সুরক্ষিত রাখার জন্য় ব্যাঙ্কের লকারে গচ্ছিত রাখেন। কিন্তু ব্যাঙ্কের লকার থেকেই যদি হাওয়া হয়ে যায় আপনার যাবতীয় অলঙ্কার ? সে তো দুঃস্বপ্ন !
ব্যাঙ্কের জিম্মায় গয়নাগাটি রাখার জন্য ফি-বছর মোটা টাকা লকার-ফি গুণতে হয় গ্রাহকদের। কিন্তু সুরক্ষিত রাখার বদলে যদি লকার থেকেই গয়নাগুলি হাওয়া হয়ে যায়? রাজধানী দিল্লিতে সম্প্রতি এমন একটি অভিযোগ সামনে এসেছে। বিষয়টি জেনে আতঙ্কিত বহু গ্রাহকই। এক দিল্লিবাসী মহিলা দাবি করেছেন, কীর্তি নগর শাখায় তাঁর ব্যাঙ্কে বহু গয়নাই রাখা ছিস। কিন্তু হালে লকার খুলে দেখেন, তাঁর ৬০ লক্ষ মূল্যের সোনার গয়না উধাও হয়ে গিয়েছে।
পিটিআই-এর এক প্রতিবেদন অনুসারে, দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, মহিলা দাবি করেছেন যে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং পদ্ধতি অনুসারে ব্যাঙ্ক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে লকারটি খোলা হয়েছিল এবং কোনও গয়না সেখানে নেই। অভিযোগকারিণী মহিলা ব্যাঙ্ক কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানান। পুলিশের সঙ্গেও যোগাযোগ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর সোনার গয়নাগুলি খোয়া গিয়েছে। তবে,দিল্লি পুলিশের তদন্তে ব্যাঙ্কের তরফে তেমন কোনও বেনিয়ম ধরা পড়েনি। লকারে জোর করে ভাঙা বা কারচুপির কোনও চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ক্রাইম ব্রাঞ্চের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে লকারটি পরীক্ষা করে দেখেন।
পুলিশি তদন্তে এখন পর্যন্ত কী প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাংকের লকারে চুরির খবর পেয়ে, বেশ কয়েকজন গ্রাহক তাদের মূল্যবান জিনিসপত্র যাচাই করার জন্য শাখায় ছুটে যান। তবে অন্য কোনও গ্রাহক কোনও চুরি বা হারিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেননি। পুলিশ আরও তদন্ত করে দেখেছে যে লকারের ইনভেন্টরি চেক করার সময় অন্য কোনও লকার ভাঙা বা নষ্ট করার ঘটনা পাওয়া যায়নি। ব্যাংকের রেকর্ড থেকে জানা যায় যে অভিযোগকারীর লকারে আগেও প্রবেশ করেছিল কেউ। মহিলার অভিযোগ নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে যে তদন্তের অংশ হিসেবে তারা সিসিটিভি ফুটেজ এবং ব্যাংক রেকর্ড পরীক্ষা করছে। তদন্ত চলছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনা নিয়ে জোরদার আলোচনা চলছে। কেউ কেউ বার মনে করছেন, এটি ব্যাংক লকারে চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা নয়, বরং পারিবারিক বিরোধ বা কলহ। পুলিশি তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত, এটি ফৌজদারি মামলা নাকি পারিবারিক কলহ তা নির্ধারণ করা কঠিন।
আরবিআই-এর নিয়ম কী বলে?রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (RBI) এর নিয়ম অনুসারে, ব্যাংক লকারের জিনিসপত্রের জন্য ব্যাংকের কিছুটা দায়িত্ব আছে। তাই , এই কোনও চুরি বা অবহেলা হলে ব্যাংকের দায়িত্ব তো থাকেই। কোনও ক্ষতির ক্ষেত্রে, ব্যাংক বার্ষিক লকার ভাড়ার ১০০ গুণ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য। তবে, ভূমিকম্প এবং বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা গ্রাহকের অবহেলার কারণে ক্ষতির জন্য ব্যাংক দায়ী নয়।