Pakistan Spy Network : ভারতীয় সেনার (Indian Army) ওপর ফের সন্ত্রাসবাদী হামলার ছক কষছে পাকিস্তান ! মোদি সরকারের অস্বস্তি বাড়াতে 'ঘরেই' নিয়োগ করা হয়েছে 'হ্যান্ডলার'। এবার পাকিস্তানের গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের বড় পর্দা ফাঁস করল ভারত। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ISI-এর সঙ্গে যুক্ত বড় স্পাই নেটওয়ার্কের হদিশ পাওয়া গেছে উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে। এই ঘটনায় এক মহিলা ও নাবালকসহ নতুন করে ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই নিয়ে সেনার ওপর সরাসরি নজরদারির অভিযোগে মোট গ্রেফতারির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৪।
কীভাবে এই গোয়েন্দা চক্র কাজ করততদন্তকারী সংস্থার সূত্র বলছে, এই স্পাই চক্রের মূল পান্ডা ছিল নওশাদ আলি। নওশাদ পরিকল্পিতভাবে মোবাইল রিপেয়ারিং, কম্পিউটার ও সিসিটিভি (CCTV) কাজে দক্ষ যুবকদের নিয়োগ করত। মূলত গরিব পরিবারের সন্তানদের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে এই পথে আনা হতো। মূলত, সোশ্যাল মিডিয়ায় অপরাধপ্রবণ তরুণদের টার্গেট করত নওশাদ। তবে এই তরুণদের অতীতের পুলিশ রেকর্ড থাকলে তাদের বাদ দেওয়া হত।
মহিলাদের নিয়োগ করা হত বেছে বেছেপুলিশ জানিয়েছে, জনগণের সন্দেহ এড়াতে এই চক্রে সচেতনভাবে মহিলাদের যুক্ত করা হত। ধৃতদের মধ্যে অন্যতম ছিল মীরা, যার কাজ ছিল অস্ত্র সরবরাহ করা। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের হাতে এর আগেও একবার গ্রেফতার করা হয়েছিল মীরাকে।
সেনাবাহিনী কোথায় যাচ্ছে, চালানো হত লাইভ নজরদারিসবথকে বড় বিষয়, তদন্তকারী সূত্র জানিয়েছে- এই চক্রটি দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট ও সোনিপথ রেল স্টেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় গোপনে সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়েছিল। এই ক্যামেরার মাধ্যমে সেনাবাহিনীর ট্রুপ মুভমেন্ট-এর লাইভ ফুটেজ পাঠানো হতো। অস্ত্রশস্ত্র কোথা দিয়ে কোথায় যাচ্ছে তা নজর রাখা হত সিসিটিভির মাধ্যমে।
ভিডিয়ো পিছু দেওয়া হত ১০০০০ টাকাএই কাজ করার জন্য প্রতিটি ভিডিও ক্লিপে অভিযুক্ত সোহেল মালিককে ১০,০০০ টাকা করে দেওয়া হতো পাক স্পাইদের তরফে। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, দিল্লি থেকে কাশ্মীর পর্যন্ত প্রায় ৫০টি এমন গোপন ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা ছিল এই চক্রটির।
তবে এই প্রথমবার নয়। অতীতেও উত্তরপ্রদেশ থেকে এই ধরনের পাকিস্তানের সঙ্গে জড়িত জঙ্গি নেটওয়ার্কের প্রদা ফাঁস করেছে ভারতীয় গোয়ান্দা সংস্থাগুলি। যাতে সঙ্গ দিয়েছে স্থানীয় পুলিশ নেটওয়ার্ক। এবারও সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলা। যাতে ধরা পড়ল, দুষ্ট চক্রের বড় মাথা।