নয়া দিল্লি: এবার বালুচিস্তানে সুরাব জেলা দখল করেছে বালুচ লিবারেশন আর্মির (বিএলএ), এমনটাই দাবি করা হল, খবর সংবাদসংস্থা আইএএনএস সূত্রে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, বিএলএ স্থানীয় লেভিস স্টেশন, পুলিশ স্টেশন এবং একটি ব্যাঙ্ক দখল করে নিয়েছে।
বালোচ লিবারেশন আর্মি দাবি করেছে, তারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সুরাব শহরের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগুন ও কালো ধোঁয়ার ছবি ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। একাধিক থানা, প্রশাসনিক ভবনে আগুন লাগিয়ে দেয় বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
এমনকী, কোয়েটা-করাচি এবং সুরাব-গিদের মহাসড়কে তল্লাশি এবং কঠোর তল্লাশি চালানো হচ্ছে। জেলা এবং এর আশেপাশে কঠোর অবরোধ জারি করা হয়েছে এবং আসা-যাওয়াকারী প্রতিটি ব্যক্তির উপর নজর রাখা হচ্ছে। BLA জানিয়েছে, পাকিস্তানি সেনা ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, নিহত SHO। প্রচণ্ড সংঘর্ষের পর পাকিস্তানি বাহিনীকে পিছু হটতে বাধ্য করা হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) হিদায়াত উল্লাহ শ্বাসরোধে মারা গেছেন। বলা হচ্ছে, সশস্ত্র হামলাকারীরা তাকে একটি ঘরে আটকে রেখেছিল। একাধিক পুলিশ সদস্যের অস্ত্রও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ এবং এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এখনও পর্যন্ত সরকার বা নিরাপত্তা সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, এই হামলায় বহু সরকারি গাড়িতে আগুন লাগানো হয়েছে। পাকিস্তান সরকার BLA-কে একটি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসাবে চিহ্নিত করেছে। তবে সংগঠনটি নিজেকে স্বাধীনতার লড়াইয়ে যুক্ত বলে দাবি করে। চিনের সঙ্গে গড়ে ওঠা CPEC প্রকল্প এবং পাকিস্তানি সামরিক ঘাঁটিতেও অতীতে বহু হামলা চালিয়েছে এই গোষ্ঠী।
ওয়াকিবহাল মহলের মত, সুরাব শহর দখলের ঘটনা পাকিস্তানের অখণ্ডতার ওপর বড়সড় আঘাত। বালুচিস্তানের পাশাপাশি সিন্ধ, খাইবার পাখতুনখাওয়া এবং পাক-অধিকৃত কাশ্মীরেও বিদ্রোহের সম্ভাবনা বেড়ে যাচ্ছে।
বিএলএ মুখপাত্র জিয়ান্দ বালুচ এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, তার যোদ্ধারা সুরাব শহর সম্পূর্ণরূপে দখল করে নিয়েছে। তিনি বলেন, স্থানীয় ব্যাঙ্ক, লেভি এবং পুলিশ স্টেশন এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে। সংগঠনটি শীঘ্রই একটি বিস্তারিত বিবৃতি জারি করবে।