নয়াদিল্লি: যাত্রী নিয়ে সাগরে নিখোঁজ বোয়িং বিমান। কার্গো বিমানটিতে পাঁচ জন সওয়ার ছিলেন। আকাশে ওড়ার কিছু ক্ষণ পরই বিমানটি গায়েব হয়ে যায়। বিমানটির খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। (Boeing 737 Plane Missing)

Continues below advertisement

মঙ্গলবার রাত ৯টা বেজে ২১ মিনিটে পাকিস্তানের করাচি থেকে আকাশে উড়েছিল বোয়িং ৭৩৭ বিমানটি। করাচি থেকে সংযুক্তি আরব আমিরশাহির শারজা যাচ্ছিল। বিমানটির নেভিগেশন সিস্টেমে সমস্যা দেখা দেয় বলে জানা গিয়েছে। (Pakistan Cargo Plane Missing)

আরও পড়ুন: ডিম্যান্ড আছে, কেনার ক্ষমতা নেই, হাউজিং মার্কেটে পতন, বিলাসবহুল টাওয়ারের ভিড়ে মধ্যবিত্তের কি আর নিজের বাড়ি হবে না?

Continues below advertisement

বিমানটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিল K2 Airways. করাচির একটি বেসরকারি প্রাইভেট কার্গো বিমান। সংস্থার ওয়েবসাইটে দেখা যাচ্ছে, ২০১৮ সালে সেটির প্রতিষ্ঠা হয়।  বিমানে সওয়ার পাঁচজনকে শনাক্ত করা গিয়েছে। পাকিস্তান বেসমরিক বিমান পরিবহণ সংস্থার সঙ্গে সম্পূর্ণ ভাবে সহযোগিতা করছে K2 Airways. 

Flightdaradar24-এর তথ্য় বলছে, আকাশে ওড়ার সময় হঠাৎই টলমল করে ওঠে বিমানটি। এরপর তীব্র গতিতে অধোমুখে নামতে শুরু করে। পাকিস্তানের নৌবাহিনী, বায়ুসেনাও উদ্ধারকার্যে নেমেছে।  সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার বিমানটিকে গাইড করার চেষ্টা করে। কিন্তু মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে রেডার সিস্টেমে দেখা যায়, তীব্র গতিতে অধোমুখে ধাবিত হচ্ছে বিমানটি। এর পরই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

আরও পড়ুন: নরেন্দ্রপুর থেকে বাবা ও নাবালক ছেলেকে অপহরণ, মুক্তিপণ চেয়ে ফোন বাড়িতে, শেষে বিজেপি-র কার্যালয় থেকে উদ্ধার, গ্রেফতার ৩

এক মিনিটেরও কম সময়ে বিমানটি ৫০০০ ফুট নীচে নেমে যায় বলে জানিয়েছে Flightdaradar24. ৩০ সেকেন্ডের মাথায় আরও ৬০০০ ফুট উঁচুতে উঠলেও, এর পর সটান ৩৬,৫৫০ ফুট নীচে নেমে যায় বিমানটি। শেষ যে তথ্য হাতে পাওয়া গিয়েছে, তাতে সাগরের জলস্তর থেকে বিমানটির উচ্চতা ছিল ১১০০ ফুট। সেই সময় উল্লম্ব অবতরণের হার ছিল মিনিটে -২২৪০০ ফুট, অর্থাৎ ঘণ্টায় প্রায় ৪০০ কিলোমিটার। একেবারে খাড়া ভাবে, অস্বাভাবিক গতিতে অধোমুখে ধাবিত হয়। 

যে বিমানটি নিখোঁজ হয়ে গিয়েছে, সেটি বোয়িংয়ের ৭২৭-৪০০ বিমান, ৭৩৭ MAX-এর চেয়ে দু'দশক পুরনো। সেটির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে সম্প্রতি। CFM International-এর ইঞ্জিন ব্যবহার করে বিমানটি। ৭২৭-৪০০ বিমান প্রথমে যাত্রীবিমান হিসেবে ১৯৯৯ সালে রাশিয়ার Aeroflot-কে দেওয়া হয়। ২০১২ সালে সেটিকে  রূপান্তরিত করা হয় কার্গো বিমানে। K2 Airways-এর একমাত্র বিমান ছিল নিখোঁজ হয়ে যাওয়া বিমানটি। ২০২৪ সালে সেটি তাদের হাতে ওঠে। ২৮ জুনের পর গতকালই আকাশে উড়েছিল বিমানটি।

শেষ বার, পাকিস্তানে বড় বিমান দুর্ঘটনা ঘটে ২০২০ সালে। সেবার পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের একটি বিমান করাচি বিমানবন্দরে নামার সময় ভেঙে পড়ে বিমানটি। ৯৯ জন যাত্রীর মধ্যে মাত্র দু’জন প্রাণে বেঁচেছিলেন সেবার।