ভারতের প্রত্যাঘাতে নিজেদের জায়গাটা ভালই বুঝে গিয়েছে পাকিস্তান। দু-দিনের সংঘর্ষে কার্যত দুরমুশ হয়ে গিয়েছে তাদের প্রতিরক্ষার খুঁটিগুলো এদিকে পাকিস্তানের অন্দরেও ক্ষোভের প্রচণ্ড আগুন। পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে এগোচ্ছে। দেশে জল নিয়ে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সিন্ধু ও পাঞ্জাবের মধ্যে জল নিয়ে চলছে তীব্র বিরোধ। সমস্যাটা এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি একেবারে অগ্নিগর্ভ।
একদিকে বালুচিস্তানে তীব্র অস্থিরতা, অন্যদিকে সিন্ধু প্রদেশও জ্বলছে। সিন্ধুর মানুষ বিতর্কিত ছয়টি ক্যানেল ও কর্পোরেট কৃষি প্রকল্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নেমেছে সিন্ধ প্রদেশের মানুষ। জল না পেয়ে, সিন্ধের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিয়াউল হাসান লাঞ্জারের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। নৌশেরো ফিরোজ জেলার মোরো তালুকে বিক্ষোভ চলাকালীন রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা এলাকা। 'দ্য ট্রিবিউন এক্সপ্রেস'-এর এক খবর অনুযায়ী, নওশেরো ফিরোজ জেলার মোরো তালুকে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়েছে। এতে কমপক্ষে দুই বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে এবং বহু লোক আহত হয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিয়াউল হাসান লঞ্জারের বাড়িতে ভাঙচুর করে, ঘর ও আসবাবপত্র পুড়িয়ে দেয়। গৃহমন্ত্রীর ব্যক্তিগত রক্ষীরা পৌঁছালে বিক্ষোভকারীরা তাদেরও লক্ষ্য করে আক্রমণ করে। পরিস্থিতি সামলাতে মন্ত্রীর রক্ষীরা শূন্যে গুলি ছোড়ে। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা লুটপাটও শুরু করে। একই সঙ্গে হাইওয়েতে থাকা ট্রাকগুলিতেও আগুন ধরিয়ে দেয়। এই পুরো ঘটনার জন্য এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে।
এই সময়, পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে বেঁধে যায় তীব্র সংঘর্ষ। জানা যাচ্ছে তার জেরে দুই বিক্ষোভকারী মারাও গিয়েছে। চোলিস্তান খালের বিষয়টি পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)-এর নেতৃত্বাধীন সিন্ধু সরকার এবং কেন্দ্রের শাহবাজ শরিফ সরকারের মধ্যে প্রধান বিরোধের কারণ। আসলে চোলিস্তান মরুভূমিতে সেচের জন্য পাকিস্তানের শাহবাজ শরিফ সরকার সিন্ধু নদীর উপর ছয়টি খাল নির্মাণের পরিকল্পনা করছিল। কিন্তু পিপিপি এবং সিন্ধু প্রদেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলি এই প্রকল্পের বিরোধিতা করছে। আর তার থেকেই এই সাঙ্ঘাতিক পরিস্থিতি। জ্বলছে পাকিস্তানের অন্দরমহল।