বালুচিস্তানে রক্তক্ষরণ অব্যাহত। একদিকে বিএলএ এবং তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-র লাগাতার হামলা দমন করতে পাল্টা আক্রমণে নেমেছে পাক ফৌজ। সব মিলিয়ে পারদ চড়ছে বালুচিস্তানে। আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকার বিভিন্ন প্রান্তে দুই বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তীব্র প্রত্যাঘাত করেছে আসিম মুনিরের সেনা। এলোপাথাড়ি আক্রমণে ১৪৫ জন বালুচ যোদ্ধাকে মেরেছে পাক ফৌজ। এমনটাই দাবি সেনা সূত্রে।

Continues below advertisement

রণক্ষেত্র বালুচিস্তানে পাক সেনার সঙ্গী পুলিশ, পাক সন্ত্রাসদমন বাহিনী সিটিডি ও  আধাসেনা। ৩ দিন আগেই বালুচিস্তানের বহু শহরে সশস্ত্র হামলা চালায়  বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (BLA)। পাল্টা  দুই বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে  অভিযান শুরু করে  পাক সেনা ।  খাইবার পাখতুনখোয়া, বালুচিস্তান এবং পঞ্জাব প্রদেশ জুড়ে অভিযানে বহু বিদ্রোহী নিহত হয়েছেন বলে পাক সেনার জনসংযোগ দফতর দাবি করেছে।

সংবাদ সংস্থা রয়টার্স সূত্রে খবর,   পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তাল্লাল চৌধুরীর দাবি, শনিবার সাধারণ মানুষের বেশে বিদ্রোহী গোষ্ঠী হাসপাতাল, স্কুল, ব্যাঙ্কে ঢুকে রক্তক্ষয়ী হামলা চালায়। একে বারে ভরা বাজারে ঢুকে পরপর গুলি চালানো শুরু করে। তাদের লক্ষ্যবস্তু সাধারণ মানুষ আর পাক-সম্পদ। নিজেদের বাঁচাতে তারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে সাধারণ মানুষকে। 

Continues below advertisement

রাজধানী কোয়েটার পরিস্থিতি ভয়াবহ

বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বালুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) হামলার দায় স্বীকারও করেছে। তারা বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, তারা এবার  'হেরোফ' বা "কালো ঝড়" নামে একটি অভিযান শুরু করেছে। বেছে বেছে নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করা হচ্ছে। রাজধানী কোয়েটায় এই হামলার চিহ্ন স্পষ্ট। একটি পুলিশ স্টেশন কার্যত পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। পড়ে রয়েছে পোড়া পুলিশ জিপ।  গুলির আঘাতে ঝাঁঝরা হয়েছে দরজা । হলুদ টেপ দিয়ে সিল করা হয়েছে সেই রাস্তা । ক্রমাগত টহল দিচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী। শুধু একটি পুলিশ থানায় নয়, হামলার চিহ্ন দিকে দিকে। 

বালুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি জানিয়েছেন, হামলায় ১৭ জন পুলিশকর্মী এবং ৩১ জন নাগরিক নিহত হয়েছেন। বুগতির দাবি,  "আমরা গোয়েন্দা সূত্রে খবর পেয়েছিলাম যে এই ধরনের অভিযানের পরিকল্পনা করা হচ্ছে এবং তাই আমরা একদিন আগেই প্রি-অপারেশন শুরু করেছিলাম।"  

 বালুচিস্তান পাকিস্তানের বৃহত্তম এবং দরিদ্রতম প্রদেশ, যেখানে কয়েক দশক ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিদ্রোহ চলছে। এই বিচ্ছিন্নতাবাদীরা পাকিস্তান সরকারের কাছ থেকে তাদের স্বাধীনতা এবং প্রাকৃতিক সম্পদে অংশীদারিত্বের দাবি জানিয়ে আসছে । বিএলএদের দাবি, পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর ৮৪ জন সদস্যকে হত্যা করেছে এবং ১৮ জনকে বন্দী করা হয়েছে ।