নয়াদিল্লি: একরাতের বৃষ্টিতেই নাজেহাল অবস্থা রাজধানীর। রাস্তাঘাট যেমন জলমগ্ন, তেমনই ইন্দিরা গাঁধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিষেবাও বিঘ্নিত হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতেই বিমানবন্দরের গুণমান ও ব্যবস্থা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠে গেল। কারণ ঝড়-বৃষ্টিতে বিমানবন্দরের ছাদই খুলে পড়ে। একেবারে জল থৈ থৈ অবস্থা হল বিমানবন্দরের। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গিয়েছে ভিডিওটি। (Delhi Airport Roof Collapses)

এবছর আগে বর্ষা ঢুকে পড়ায় এবং পর পর দুর্যোগের ঘটনায় আগে থেকেই লাল সতর্কতা জারি ছিল রাজধানীতে। শনিবার রাত ১১.৩০টা থেকে সেই মতো ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয় দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকায়। টানা ছ'ঘণ্টা ধরে চলে প্রবল বৃষ্টি। এর ফলে একাধিক এলাকায় জল জমে  যায়। প্রবল ঝোড়ো হাওয়ায় ভেঙে পড়ে গাছপালা, বাতিস্তম্ভ। বিমানবন্দরের পরিষেবাও বিঘ্নিত হয়। বহু বিমানকে অন্যত্র ঘুরিয়ে নিয়ে যেতে হয়। দেরিতে ছাড়ে বিমান। (Delhi Rains)

আর সেই আবহেই রবিবার ভোরে দিল্লি বিমানবন্দরের ১ নম্বর টার্মিনালে বড় বিপর্যয় নেমে আসে। ঝড়-বৃষ্টির আঘাত সইতে না পেরে ছাদের একটি অংশ ভেঙে পড়ে সেখানে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। দেখা গিয়েছে, ঝাঁ চকচকে বিমানবন্দরের একটি অংশে ঝর ঝর করে জল পড়ছে উপর থেকে। বিমানবন্দরের কর্মীরা কার্যত নিরুপায় হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন সেখানে। 

এর কিছু ক্ষণের মধ্যেই হঠাৎ জলের তীব্রতা বেড়ে যায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে ছাদের একটি অংশ। সেই সঙ্গে জলের ধারা নেমে আসে। জলে ভেসে যাওয়ার উপক্রম হয় চারিদিক। দিল্লি বিমানবন্দরের ১ নম্বর টার্মিনালটিকে ব্যস্ততম বলে ধরা হয়। সেখানে এমন বিপর্যয় ঘটল কেন, কেমন নির্মাণ যে দুর্যোগে ভেঙে পড়ে, প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শুধুমাত্র ১ নম্বর টার্মিনালই নয়, বিমানবন্দরের ৩ নম্বর টার্মিনালে ঢোকার মুখের অংশ কার্যত নদীতে পরিণত হয়েছে। সংবাদ সংস্থা পিটিআই সেই ভিডিও-ও তুলে ধরেছে। গোটা ঘটনায় ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন যাত্রীরা। 

 
দিল্লি বিমানবন্দরের তরফে এ নিয়ে বিবৃতি জারি করা হয়েছে। তাদের দাবি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ সামাল দেওয়ার জন্য বিশেষ ভাবে নির্মাণকার্য সম্পন্ন হয়েছিল, যাতে অতিরিক্ত জল জমতে না পারে। ১ নম্বর টার্মিনালের ছাদের অংশে প্রসারণযোগ্য পদার্থ বস্তু ব্য়বহার করা হয়েছিল, যার মাধ্যমে বাড়তি জল নেমে এসেছে। নির্মাণের কোনও ক্ষতি হয়নি। 
 
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, ৭০-৮০ কিলোমিটার গতিতে ঝড় হচ্ছিল। ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে একরাতে। অল্প সময়ের মধ্যে এত বড় বিপর্যয় নেমে আসাতেই জলবন্দি হতে হয়। সাময়িক বাধাবিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছিল। মৌসম ভবন জানিয়েছে, দিল্লির বিস্তীর্ণ এলাকায় গত কাল ঘণ্টায় ৮২ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইছিল। মাত্র ছ'ঘণ্টায় ৮১.২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।