নয়াদিল্লি : দশেরা উদযাপন যোগ দেওয়া এবং রাবণ দহন (রাবণের কুশপুত্তলিকা পোড়ানো) অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। সেই উপলক্ষ্যে পূর্ব দিল্লির আইপি এক্সটেনশনের উৎসব গ্রাউন্ডে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হবে।

Continues below advertisement

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানস্থলের চারপাশের যান চলাচল ভিন্ন পথে ঘুরিয়ে দেওয়া এবং বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা ও যান চলাচল ব্যবস্থার জন্য কেন্দ্রীয় সশস্ত্র আধাসামরিক বাহিনী এবং দিল্লি পুলিশের প্রায় ২,৫০০ কর্মীকে মোতায়েন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে 'স্পেশাল সেল'-এর অধীনস্থ সন্ত্রাসবিরোধী ও হোস্টে়জ উদ্ধারকারী ইউনিট 'স্পেশাল ওয়েপনস অ্যান্ড ট্যাকটিকস' (SWAT)-এর কমান্ডোরা। এক আধিকারিক জানিয়েছেন, সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং অনুষ্ঠানস্থলে যাওয়ার পথে বা অনুষ্ঠানস্থলে বিক্ষোভ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কার পরিপ্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

Continues below advertisement

আধিকারিকরা জানিয়েছেন, নিরাপত্তার একেবারে ভেতরের বলয়টির দায়িত্ব নেবে স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ (এসপিজি)। মাঝের স্তরে থাকবে দিল্লি পুলিশের প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা শাখার কর্মীরা, যার মধ্যে কমান্ডোরাও অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। নিরাপত্তার তৃতীয় স্তরের দায়িত্ব সামলাবে স্থানীয় পুলিশ।

আধিকারিকরা জানিয়েছেন, রাবণ দহন অনুষ্ঠানে প্রায় ১০ হাজার মানুষের সমাগম হতে পারে। জানা গেছে, সন্ধে সাড়ে ৬টার দিকে প্রধানমন্ত্রী যখন অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছাবেন, তখন কেবল আয়োজকদের দেওয়া বৈধ প্রবেশপত্রধারীরাই সেখানে থাকতে পারবেন। প্রবেশ গেটে প্রত্যেককে বাধ্যতামূলক তল্লাশির মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এসপিজি (SPG) অনুষ্ঠানস্থলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এবং কোনও সন্দেহজনক বস্তু রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে কয়েক দফায় তল্লাশি চালানো হয়েছে।

ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (পূর্ব) রাজীব কুমার জানিয়েছেন, তাঁর আওতাধীন এলাকায় আইপি এক্সটেনশন মাঠ ও অন্যান্য স্থানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দশেরার অনুষ্ঠানগুলির জন্য ব্যাপক নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থার আয়োজন করা হয়েছে। তিনি জানান, অনুষ্ঠানস্থলে নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করার পাশাপাশি ড্রোনের মাধ্যমে আকাশপথেও নজরদারি চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, "রাবণ দহন অনুষ্ঠান উপলক্ষে আইপি এক্সটেনশন উৎসব মাঠ ও এর আশপাশের এলাকায় পর্যাপ্ত সংখ্যক নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে এবং সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিস্তারিত বিষয়ে আমরা আর কিছু জানাতে পারব না।" উপরে উল্লিখিত প্রথম আধিকারিক জানিয়েছেন যে, প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরের যাত্রাপথ ও অনুষ্ঠানস্থলের আশপাশের সব বহুতল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তল্লাশি করা হয়েছে এবং সেগুলিকে নিরাপদ করা হয়েছে।