নয়া দিল্লি: ইজরায়েল-সহ গোটা পশ্চিম এশিয়ায় মিসাইল ছুড়ছে ইরান। যখন তখন উড়ে আসছে মিসাইল, আত্মঘাতী ড্রোন। চলছে হামলা, পাল্টা হামলা। ইজরায়েল-সহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে দুবাই, কাতার, কুয়েত, দোহা, বাহরিনের আকাশসীমা। এই প্রেক্ষাপটে মাঝরাতে প্রধানমন্ত্রীর বাড়িতে বৈঠকে মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটি। 

Continues below advertisement

বিদেশ সফর সেরেই বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে রয়েছেন রাজনাথ সিং, অমিত শাহ, এস জয়শঙ্কর, নির্মলা সীতারমণ। বৈঠকে রয়েছেন অজিত ডোভাল ও বিদেশ সচিব। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার ফলে সেখানে আটকে পড়া লক্ষ লক্ষ ভারতীয়দের নিরাপত্তা এবং দেশের জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলাই এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য।                                                                                   

আতঙ্কে সিঁটিয়ে রয়েছেন বর্তমানে এইসব দেশে থাকা সাধারণ মানুষ থেকে সেলিব্রিটিরা। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইজরায়েলে ভারতীয় দূতাবাসের তরফে অ্যাডভাইসরি জারি করে বলা হয়েছে, যারা আটকে পড়েছেন তাঁদের সকলের সঙ্গে দূতাবাস যোগাযোগ রাখছে। তাঁদেরকে মিশর বা জর্ডন, যে পথ নিরাপদ এবং যখনই কোনও সুযোগ থাকবে, সেখান থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতি সড়কপথে যাতায়াতের অনুকূল নয়।

Continues below advertisement

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশাবলী মেনে চলার জন্য ইজরায়েলে ভারতীয় দূতাবাসের তরফে অ্যাডভাইজারি জারি করা হয়েছে। 

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে রবিবার রাতেই মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির (CCS) জরুরি বৈঠক ডাকেন প্রধানমন্ত্রী। সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, রণক্ষেত্রের মাঝখানে আটকে পড়া হাজার হাজার ভারতীয়কে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনাই এখন কেন্দ্রের প্রধান চ্যালেঞ্জ।                         

অন্যদিকে, জ্বালানি নিরাপত্তা ও হরমুজ প্রণালী নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। প্রসঙ্গত, বিশ্বের মোট রফতানিযোগ্য তেলের এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। তেহরান এই পথ বন্ধ করার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়ানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভারত তার প্রয়োজনীয় তেলের প্রায় ৮০ শতাংশই আমদানি করে, ফলে এই অবরোধ দেশের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিতে পারে।