নয়াদিল্লি: অশোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আলি খান মাহমুদাবাদকে সম্প্রতি দিল্লিতে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপারেশন সিঁদুর নিয়ে আপত্তিকর সমাজমাধ্যম পোস্ট করার অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার এমনটাই জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। ভারতীয় দণ্ডবিধির ধারায় এই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ভারতীয় জনতা পার্টির এক সদস্য মামলা দায়ের করেছেন। মূলত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ভঙ্গের চেষ্টা, বৈরিতা তৈরির চেষ্টা, বিচ্ছিন্নতাবাদে উস্কানি দেওয়া, সশস্ত্র বিদ্রোহ, নাশকতামূলক কার্যকলাপ, ধর্মীয় বিশ্বাসের অবমাননার অভিযোগ দায়ের হয়েছে এই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে।
অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অফ পুলিশ অজিত সিং পিটিআই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, আলি খান মাহমুদাবাদকে দিল্লি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হরিয়ানার বিজেপির যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক যোগেশ জাঠেরি শনিবার সোনপত জেলার রাই থানায় এই মামলা দায়ের করেন বলেই জানা গিয়েছে সংবাদসূত্রে।
হরিয়ানা রাজ্য মহিলা কমিশন এই অধ্যাপকের মন্তব্যের নজরদারি করার পরে এই ঘটনা ঘটে। কমিশনের তরফে একটি নোটিশ পাঠানো হয়েছে যেখানে বলা হয়েছে যে তাঁর মন্তব্য ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর মহিলা অফিসারদের অবমাননা করেছে এবং সাম্প্রদায়িক বিভেদ উস্কে দিয়েছে। সমনের জবাবে অধ্যাপক মাহমুদাবাদ বলেছেন, অপারেশন সিঁদুর এবং এর সঙ্গে জড়িত মহিলা অফিসারদের উপর তাঁর সমাজমাধ্যম পোস্ট মোটেও নারীবিদ্বেষী ছিল না, অযথা তাকে সেন্সর করা হচ্ছে। তিনি আরও লেখেন যে মহিলা কমিশন কীভাবে আমার মন্তব্য নারী অধিকার ও আইনের পরিপন্থী হয়েছে তা তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে।
কী লিখেছিলেন অধ্যাপক মাহমুদাবাদ
ফেসবুকে অধ্যাপক মাহমুদাবাদ অপারেশন সিঁদুর নিয়ে উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিং এবং কর্ণেল সোফিয়া কুরেশির প্রেস কনফারেন্সকে 'হিপোক্রেসি' বলে উল্লেখ করেছিলেন। এমনকী এই পোস্টে তিনি লেখেন, 'আমি খুব খুশি যে অনেক দক্ষিণপন্থী ভাষ্যকার কর্ণেল সোফিয়া কুরেশির প্রশংসায় পঞ্চমুখ। কিন্তু তারা সম্ভবত একইভাবে জোর গলায় তারা এটা দাবি করতে পারছেন না যে সমস্ত ভারতীয় নাগরিক বিজেপির ঘৃণা বিদ্বেষ ছড়ানোর কারণে, অনৈতিক বুলডোজার চালিয়ে ঘর নষ্ট করে দেওয়ার কারণে, গণপিটুনির শিকার হয়ে নিগৃহীত হয়েছেন তারা কী আগামীতে সুরক্ষিত থাকবে দেশে ?'
এই পোস্টের কারণেই কমিশনের তরফ থেকে তাঁকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে আর রবিবার তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে দিল্লিতে। ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওতে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন পর্যটকের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে ভারত অপারেশন সিঁদুরের মাধ্যমে পাকিস্তান ও পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের ৯টি জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করে। আর তারপরেই সংবাদমাধ্যমের সামনে বক্তব্য রেখেছিলেন ভারতীয় সেনার কর্ণেল সোফিয়া কুরেশি এবং উইন্ড কমান্ডার ব্যোমিকা সিং।