চণ্ডীগড়: বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়নি এখনও। তার আগেই সরগরম পঞ্জাবের রাজ্য রাজনীতি। SIR চলাকালীন পঞ্জাবের খসড়া ভোটার তালিকা থেকে তাঁর নাম সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আম আদমি পার্টি ছেড়ে বিজেপি-তে যোগ দেওয়া, রাজ্যসভার সাংসদ রাঘব চাড্ডা। ভুলবশত নয়, বরং এর নেপথ্যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন তিনি। কিন্তু রাঘবের অভিযোগ খণ্ডন করে দিল পঞ্জাবের AAP সরকার। রাঘব নিজেই নিজেকে দিল্লির ভোটার করেছেন বলে পাল্টা জবাব দিল তারা। (Raghav Chadha Voter Registration)
বিধানসভা নির্বাচনের আগে পঞ্জাবে SIR চলছে। সেখানে খসড়া তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন রাঘব। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, ‘পঞ্জাবের AAP সরকার খসড়া ভোটার তালিকা নিয়ে প্রতিহিংসার রাজনীতি করছে। আমি পঞ্জাব থেকে রাজ্যসভার সাংসদ। পঞ্জাবের মোহালীতে ভোটার আইডি নথিভুক্ত। তার পরও খসড়া তালিকায় আমার নামের পাশে লেখা ‘স্থানান্তরিত’। ভাগ্য ভাল যে এটা খসড়া, চূড়ান্ত তালিকা নয়। দাবিদাওয়া, আপত্তি সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। ২০২৬ সালের অক্টোবরে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হবে। আমি নিয়ম মেনে সংশোধনের কাজ শুরু করে দিয়েছি’। (Raghav Chadha vs AAP)
আরও পড়ুন: ‘রাজনীতিতে আসতাম না, বলেছিল পরিবর্তন হলে সব হবে’, CBI-আদালতের ভূমিকায় প্রশ্ন রত্না দেবনাথের
খসড়া তালিকায় নামের পাশে ‘স্থানান্তরিত’ লেখার ঘটনা কোনও ভুল নয়, বরং এর নেপথ্য়ে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে দাবি রাঘবের। তাঁর কথায়, ‘নেহাত ভুল বলে মনে হচ্ছে না। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা স্পষ্ট। আমাকে ‘স্থানান্তরিত’ হিসেবে কে চিহ্নিত করল? পঞ্জাব সরকারের এক আধিকারিক। কে যাচাই করলেন? পঞ্জাব সরকারেরই এক আধিকারিক। উচ্চস্তরে কে নিয়ে গেলেন? আবারও, পঞ্জাব সরকারের আধিকারিক। দুর্নীতিগ্রস্ত AAP যবে থেকে ছেড়েছি, দলীয় নেতৃত্ব রাগে ফেটে পড়ছেন। দল ছেড়ে বিজেপি-তে যোগ দেওয়া অন্যদেরও নিশানা করছে পঞ্জাব সরকার। পঞ্জাবে সরকার চালাতে পারে AAP. কিন্তু খসড়া ভোটার তালিকা ওদের সম্পত্তি নয়’।
গত ১৩ অগাস্ট পঞ্জাবের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়। সেই তালিকায় রাঘবের নাম ছিল ‘অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, মৃত অথবা ডুপ্লিকেট’ বিভাগে। কারণ হিসেবে লেখা ছিল ‘পাকাপাকি ভাবে স্থানান্তরিত’। পঞ্জাবের খসড়া ভোটার তালিকা থেকে যে ২২.৬৬ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে, তাতে নাম রয়েছে রাঘবেরও। সেই নিয়েই AAP-এর দিকে আঙুল তুলেছেন রাঘব। কিন্তু তাঁর অভিযোগ পত্রপাঠ খারিজ করে দিয়েছে পঞ্জাবের AAP সরকার। তাদের দাবি, রাঘব নিজেই নিজেকে দিল্লির ভোটার করে তুলতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। অন্যত্র নাম ওঠার দরুণই বাদ গিয়েছে তাঁর। পঞ্জাব সরকারের এক আধিকারিক ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’কে জানান, ‘মিথ্যে অভিযোগ’ করছেন রাঘব। এতে পঞ্জাব সরকারের কোনও ভূমিকাই নেই। গোটাটাই নির্বাচন কমিশন করছে।
আরও পড়ুন: সই, আঙুলের ছাপ থাকলেই বৈধ নয় উইল, যথেষ্ট নয় রেজিস্ট্রেশনও, জানিয়ে দিল আদালত
রাঘবের অভিযোগ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে AAP. সোশ্যাল মিডিয়ায় দলের তরফে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘সরকারি রেকর্ডেই রয়েছে যে, রাঘব দিল্লিতে থাকেন, পঞ্জাবে নয়। অসাধু উপায়ে তিনি নিজেই দিল্লিতে নিজের নাম নথিভুক্ত করতে চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। তার দরুণই খসড়া তালিকা থেকে নাম বাদ গিয়েছে তাঁর। পঞ্জাবে যদি না থাকেন, ভোটার রেজিস্ট্রেশন যদি সরানোর চেষ্টা করেন, তার দায়ও তাঁর নিজের। AAP বা পঞ্জাব সরকারকে এর জন্য দায়ী করতে পারেন না তিনি’।
‘এক্স’ (X)-এ চাড্ডার বক্তব্যের জবাবে আপ (AAP) জানিয়েছে যে, তিনি পাঞ্জাবে নয়, বরং দিল্লিতেই বসবাস করছিলেন। দলটির দাবি, ভোটার তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ পড়ার বিষয়টি আসলে দিল্লিতে নিজের নাম নথিভুক্ত করার জন্য তাঁরই নেওয়া এক ‘অসাধু’ প্রচেষ্টার ফল। সংবাদমাধ্যমেও খবর হয়েছে যে পিছনের দরজা দিয়ে দিল্লির ভোটার হওয়ার চেষ্টা করছেন রাঘব। এখন গোটা দায় চাপাতে চাইছেন AAP এবং পঞ্জাব সরকারের উপর’।
রাঘবের দাবি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে দিল্লির রাজনৈতিক মহলেও। কারণ ২০২২ সালে রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন জমা করার সময় যে হলফনামা জমা দিয়েছিলেন তিনি, তাতে নিজেকে দিল্লির রাজিন্দর নগরের ৫২ নং বুথের ভোটার হিসেবে দেখিয়েছিলেন। বিষয়টি তুলে ধরেছে ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’, যা নিয়ে কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছে AAP. দিল্লিতে দলের সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজ সরাসরি রাঘবের রাজ্যসভার সদস্যপদ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন। তিনি জানান, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেলে সাংসদ পদ নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হতে পারে রাঘবকে। রাজ্যসভার আসনটিও হারাতে হতে পারে তাঁকে।
২০২২ সালে রাঘবকে রাজ্যসভায় মনোনীত করে AAP. সেই সময় নিজেকে দিল্লির ভোটার বলে দেখিয়েছিলেন রাঘব। আবার সাংসদ হওয়ার পর পঞ্জাবে নাম সরিয়ে নিয়ে যান তিনি। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভোট দিয়েছিলেন পঞ্জাবের মোহালীতে। আগামী ১২ অক্টোবর পঞ্জাবের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা।
