নয়াদিল্লি : স্রোতের মতো আসা পুণ্য়ার্থীদের সামলাতে জলের মতো টাকা খরচ হয়েছিল। প্রচার চালানো হয়েছিল দেশজুড়ে। সেই মহাকুম্ভেই ঘটল ভয়ঙ্কর বিপর্যয়! আর এনিয়ে যোগী সরকারকে তীব্র আক্রমণে নেমেছে বিরোধীরা। রাহুল গান্ধী সোশাল মিডিয়ায় লিখেছেন, 'অব্যবস্থা এবং সাধারণ ভক্তদের পরিবর্তে VIP-দের প্রতি প্রশাসনের বিশেষ নজর এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্য দায়ী।' গঙ্গাসাগরের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় X হ্যান্ডেলে লিখেছেন, গঙ্গাসাগর মেলা থেকে আমি শিখেছি, এই ধরনের মানুষের বিপুল সমাগমের ক্ষেত্রে, যেখানে তীর্থযাত্রীদের জীবন জড়িয়ে রয়েছে, সেখানে সর্বোচ্চ পর্যায়ের পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার দরকার হয়।

মৌনি অমাবস্যা মহাকুম্ভে দ্বিতীয় শাহি স্নানের পুণ্যযোগ। ভোর ৫টায় শাহি স্নানের কথা ছিল। গতকাল মাঝরাত থেকেই মহাকুম্ভের নানা ঘাটে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী ভিড় জমিয়েছিলেন। রাত ২টো নাগাদ সঙ্গমের কাছে ভিড়ের চাপে ব্যারিকেড ভেঙে যায়। তার মধ্যেই অনেকে দৌড়তে শুরু করায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তুমুল ধাক্কাধাক্কি, চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। হুড়োহুড়িতে পড়ে গিয়ে বহু মানুষ আহত হন। গ্রিন করিডর করে আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রিয়জনের খবর জানতে হাসপাতালের সামনে উদ্বিগ্ন পরিজনেরা ভিড় করেন। মর্গের সামনেও জড়ো হন অনেকে। মহাকুম্ভের মেলা প্রাঙ্গণে প্রিয়জন হারানোর হাহাকার। এই ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০। স্থানীয় হাসপাতালে এখনও ৩৬ জনের চিকিৎসা চলছে বলে জানিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের ডিআইজি বৈভব কৃষ্ণ।

এই ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হলেন রাহুল গান্ধী। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখলেন, "প্রয়াগরাজে মহাকুম্ভে পদপিষ্ট হয়ে বহু মানুষের মৃত্যু ও আহত হওয়ার খবর খুবই দুঃখজনক। শোকাহতদের পরিবারকে গভীর সমবেদনা জানাই। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। অব্যবস্থা, অব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষদের প্রতি নজর দেওয়ার পরিবর্তে ভিআইপি ম্যানেজমেন্টে প্রশাসনের বিশেষ নজরদারির জেরে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। মহাকুম্ভের জন্য এখনও অনেকটা সময় বেঁচে আছে। আরও অনেক মহাস্নান হবে। আজকের মতো মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঠেকাতে সিস্টেম পাল্টানো উচিত সরকারের। ভিআইপি সংস্কৃতি বন্ধ করা উচিত এবং সাধারণ ভক্তদের চাহিদা মেটাতে সরকারকে আরও ভাল ব্যবস্থা করা উচিত। আমি কংগ্রেস কর্মী ও নেতাদের অনুরোধ করছি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সাহায্য করার জন্য।"