নয়াদিল্লি:সোমবারের পর মঙ্গলবারও লোকসভায় ভাষণ দিতে পারলেন না রাহুল। প্রাক্তন সেনাকর্তা এমএম নরবণের অপ্রকাশিত বইয়ের কিছুটা অংশ পড়ে শোনাতে গেলে বাধা দেওয়া হয় তাঁকে। রাহুলের সমর্থনে লোকসভায় এদিন ভাষণ দিতে অস্বীকার করেন অনেকে। এই ‘অবাধ্য’তার জেরে তাঁদের সাসপেন্ড করলেন স্পিকার ওম বিড়লা। (Rahul Gandhi)
এখনও পর্যন্ত যে তথ্য় সামনে এসেছে, সেই অনুযায়ী, কংগ্রেস সাংসদ হিবি ইডেন, অমরিন্দর রাজা ওয়ারিং, মানকম ঠাকুর, গুরজিৎ সিংহ অউলিয়া, কিরণ কুমার রেড্ডি, প্রশান্ত পড়োলে, এস বেঙ্কটরমন, ডিন কুরিয়াকোসেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। গোটা বাজেট সেশন থেকেই সাসপেন্ড করা হয়েছে তাঁদের।(Lok Sabha Session)
লোকসভা থেকে বেরিয়ে এদিন রাহুল বলেন, “আমি কিছু জিনিস তুলে ধরতে চাই, প্রথমেই বলব, আমাদের কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না। মোদিজী ভয় পেয়েছেন। যে বাণিজ্যচুক্তি চার মাস ধরে আটকে ছিল, কিছু পাল্টায়নি। কোনও না কোনও কারণে, যা আমি জানি, তা নরেন্দ্র মোদিও জানেন। কাল সন্ধেয় চুক্তিতে সই করেছেন উনি। ইতিহাসে এই প্রথম বিরোধী দলনেতাকে রাষ্ট্রপতির অভিভাষণ নিয়ে বলতে দেওয়া হল না। ভারতের কৃষকদের বুঝতে হবে না, এই বাণিজ্য চুক্তিতে আপনাদের পরিশ্রম, রক্ত-ঘামকে মোদিজী বিক্রি করে দিয়েছেন। কম্প্রোমাইজড বলেই বিক্রি করে দিয়েছেন। শুধু আপনাদের বিক্রি করেননি, দেশকে বিক্রি করেছেন। তাই ওখানে কথা বলতে দিচ্ছেন না। নরেন্দ্র মোদির উপর চাপ আছে। ভয়ঙ্কর চাপ। হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে নরেন্দ্র মোদির যে ভাবমূর্তির বেলুন তৈরি করা হয়েছিল, তা ফেটে যেতে পারে। যারা ওই ভাবমূর্তি তৈরি করেছিল, তারাই ফাটিয়ে দিচ্ছে।"
নরবণের বই পড়তে না দিয়ে আসলে, অন্য ঘটনাক্রম থেকে নজর ঘোরানো হচ্ছে বলেও আজ অভিযোগ তোলেন রাহুল। তাঁর বক্তব্য, "নরবণের মন্তব্য় কোনও ইস্যুই নয়, এটা সাইড শো। আসল কথা হল, আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে বোড়ে করা হয়েছে। কে করেছে, কী করে করেছে, তা দেশবাসীকে বুঝতে হবে। আদানির বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে আমেরিকায়। ওরা আদানিকে আক্রমণ করছে না, মোদির অর্থনৈতিক কাঠামোকে নিশানা করছে। এপস্টিন ফাইলে আরও জিনিস আছে। সেগুলি মুক্তি পায়নি। গোটা দেশ জানতে চায়। এখনও পুরোপুরি প্রকাশিত করেনি আমেরিকা। আর আদানির বিরুদ্ধে যে মামলা, তা আসলে মোদিজীর বিরুদ্ধেই মামলা। কারণ সেটা বিজেপি-র অর্থনৈতিক কাঠামো, মোদিজীর অর্থনৈতিক কাঠামো। এটাই চাপ। বুঝতে হবে, প্রধানমন্ত্রী আপসের রাস্তায় হাঁটছেন।”
এদিন লোকসভায় কাগজ ছোড়ার অভিযোগও ওঠে বিরোধী শিবিরের সাংসদদের বিরুদ্ধে। সেই নিয়ে পাল্টা রাহুলকেই আক্রমণ করেছেন বিজেপি সাংসদ অনুরাগ ঠাকুর। তাঁর কথায়, "সংসদে গণতন্ত্রকে অপমান করেছেন রাহুল। ওঁর একটাই উদ্দেশ্য,, ভারতীয় সেনাকে অপমান করা। কংগ্রেসের হাতে ওই একটিই অ্যাজেন্ডা রয়েছে পড়ে। এত ভাল বাজেটের পর বিরোধীদের কাছে আর কিছু নেই। তাই কাগজ ছোড়া হচ্ছে। এর চেয়ে বড় দুর্ভাগ্য কী হতে পারে? স্পিকারের অনুমতি সাপেক্ষে কথা বলতে হয় বলে জানাই নেই একজনের। ঔদ্ধত্য দেখুন ওঁর। একটি দল, একটি পরিবারের ঔদ্ধত্য। ক্ষমতার নেশা।" সাসপেন্ড হওয়া সাংসদদের বিরুদ্ধে আরও কড়া পদক্ষেপের আর্জিও জানানো হবে বলে বিজেপি সূত্রে খবর।
