নয়া দিল্লি: প্রায় দু'বছর, কোনও অফিসেই যাননি, তবু কোম্পানির নামে কর্মী হিসেবে প্রায় ৩৭.৪ লক্ষ টাকা বেতন পেয়েছেন তিনি। পুরো বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে যখন একজন অভিযোগকারী রাজস্থান হাইকোর্টে একটি আবেদন দাখিল করেন।                  

Continues below advertisement

রাজকম্প ইনফো সার্ভিসেসের তথ্য প্রযুক্তি বিভাগের যুগ্ম পরিচালক প্রদ্যুম্ন দীক্ষিত তার স্ত্রী পুনম দীক্ষিতের মাধ্যমে অবৈধ অর্থ পেয়েছিলেন। প্রদ্যুম্ন দীক্ষিতে বিরুদ্ধে বড় মাপের আর্থিক বেনিয়মের অভিযোগের তদন্তে নেমে এমনটাই জানতে পেরেছেন রাজস্থানের দুর্নীতি দমন বিভাগের (এসিবি) তদন্তকারীরা। অভিযুক্ত প্রদ্যুম্ন দীক্ষিত তাঁর সরকারি পদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাঁর স্ত্রীকে 'ওরায়নপ্রো সলিউসনস' এবং 'ট্রিগ্রিন সফটওয়্যার' নামে দু'টি বেসরকারি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় যুক্ত করেন বলে দাবি রাজস্থানের দুর্নীতি দমন বিভাগের (এসিবি) তদন্তকারীদের।                            

গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর রাজস্থান হাইকোর্টের আদেশের ভিত্তিতে, দুর্নীতি দমন ব্যুরো (এসিবি) এই বছরের ৩ জুলাই একটি প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। টেন্ডার পাসের বিনিময়ে, প্রদ্যুম্নন ওরিয়নপ্রো সলিউশনস এবং ট্রিজেন সফটওয়্যার লিমিটেড - এই দুটি কোম্পানিকে তার স্ত্রীকে নিয়োগ এবং মাসিক বেতন দেওয়ার নির্দেশ দেন। ওই মহিলা দু'টি সংস্থার অফিসে একবারও যাননি বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তা হলে কেন তাঁকে ওই টাকা দেওয়া হল? এসিবি-র তদন্তকারীদের সন্দেহ, এটা ছিল মূলত ঘুষের টাকা। 

Continues below advertisement

তদন্তে জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই দুই সংস্থা ওই মহিলার নামে পাঁচটি ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মোট ৩৭,৫৪,৪০৫ টাকা 'বেতন' হিসেবে দিয়েছে। 

পুনম দীক্ষিত একসঙ্গে দুটি সংস্থা থেকে বেতন পাচ্ছিলেন। OrionPro Solutions- কর্মচারী হিসেবে, আবার Treegen Software Limited থেকেফ্রিল্যান্সিং’-এর নামে। এই সময়ের মধ্যে ওই দুটি সংস্থা রাজ্য সরকারের কাছ থেকে একাধিক সরকারি টেন্ডারও পেয়েছিল। তদন্তে দেখা যায়, পুনম দীক্ষিত ওই সময়কালে একদিনও অফিসে যাননি। তাঁর নামে যেউপস্থিতির রিপোর্ট তৈরি হত, সেটিও অনুমোদন করতেন স্বয়ং প্রদ্যুম্ন দীক্ষিত। 

ওই দুই সংস্থাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই ধরনের আর্থিক লেনদেনের পিছনে ওই সরকারি অফিসারের ভূমিকা এবং দুর্নীতিতে তাঁর সম্ভাব্য যোগসাজশের দিকগুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।