নয়াদিল্লি: রাজধানী এক্সপ্রেস বিধ্বংসী আগুন। মধ্যপ্রদেশ থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে বিপত্তি। দাউদাউ করে জ্বলতে দেখা গেল ট্রেনের এসি কামরা। এখনও পর্যন্ত হতাহতের কোনও খবর নেই। রেল সূত্রে দাবি, কেউ হতাহত হননি। নিরাপদে বের করে আনা গিয়েছে যাত্রীদের। কী থেকে আগুন লাগল এখনও স্পষ্ট নয়। তবে গোটা ঘটনায় আবারও রেলযাত্রার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। (Rajdhani Express Fire)
মধ্যপ্রদেশের রত্লাম থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে বিক্রমগড় আলোট এবং লূনী রীছা স্টেশনের মাঝামাঝি জায়গায় এই ঘটনা ঘটেছে। রবিবার ভোর সওয়া ৫টা নাগাদ ট্রেনের B-1 কামরাটিতে আগুন লাগে। ওই কামরায় ৬৮ জন যাত্রী ছিলেন সেই সময়। ওই কামরা থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে লাগেজ কাম গার্ড ভ্যানেও। মুহূর্তের মধ্যে কার্যত জতুগৃহে পরিণত হয় ট্রেনের ওই দুই কামরা। (Train Fire)
বিপদ বুঝে দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা দুই কামরাকে ট্রেনটি থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় ওভারহেড বিদ্যুৎ সরবরাহও। রেললাইনের আশপাশে অবস্থিতি গাছপালাতেও আগুন ধরে যায়। ফলে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় সেখানে। ঘটনাস্থল থেকে যে ভিডিও সামনে এসেছে, তাতে দেখা গিয়েছে, কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে চারিদিক। দাউদাউ করে জ্বলছে ট্রেনের কামরা, লাইনের ধারের গাছপালাও।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, এসি কামরা থেকে যাত্রীদের নিরাপদে বের করে আনা সম্ভব হয়। অন্য কামরায় তুলে দেওয়া হয় তাঁদের, যাতে রাজস্থানের কোটা পর্যন্ত পৌঁছতে পারেন। আগুন লাগা দু'টি কামরা ফেলে বেলা ৯টা বেজে ৪৫ মিনিটে ট্রেনটি দুর্ঘটনাস্থল ছাড়ে। কোটায় অতিরিক্ত কামরা ট্রেনে যুক্ত করা হবে বলে সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে জানিয়েছেন ওয়েস্ট সেন্ট্রাল রেলওয়ে জনসংযোগ আধিকারিক হর্ষিত শ্রীবাস্তব।
যে ১২৪৩১ রাজধানী এক্সপ্রেসে আগুন লাগে এদিন, সেটি শুক্রবার কেরলের তিরুঅনন্তপুরম থেকে এসেছিল। আজ দুপুর ১২টা বেজে ৩০ মিনিট নাগাদ পৌঁছনোর কথা ছিল দিল্লির হজরত নিজামউদ্দিন স্টেশনে। মোট ২৫০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছিল। আর ৬৫০ কিলোমিটার দূরে ছিল দিল্লি থেকে।
এই ঘটনার পর ওই লাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। কমপক্ষে ১৮টি ট্রেনের সময়সূচি বদল করা হয়েছে। একাধিক স্টেশনে ট্রেন দাঁড়িয়ে রয়েছে এখনও। সেই তালিকায় রয়েছে মুম্বই-বারাউনি অওধ এক্সপ্রেস, মুম্বই সেন্ট্রাল- দুরন্ত এক্সপ্রেস, হজরত নিজামউদ্দিন-পুণে স্পেশাল ট্রেন, হরিদ্বার-বান্দ্রা টার্মিনাস এক্সপ্রেস, নয়া দিল্লি-ইন্দৌর এক্সপ্রেস।
