নয়াদিল্লি: অযোধ্যায় রামমন্দিরের টাকা নয়ছয় মামলায় নয়া মোড়। পুণ্যার্থীদের দান করা সোনার গয়না গলিয়ে বিস্কুট তৈরি করে ফেলা হয়েছে বলে আশঙ্কা তদন্তকারীদের। এর ফলে রামমন্দিরের সোনা চেনার আর উপায় রইল না বলে মনে করা হচ্ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত SIT. (Ram Mandir Theft Case)

Continues below advertisement

একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম এমনই দাবি করেছে। SIT সূত্রেই এমন তথ্য হাতে এসেছে বলে দাবি তাদের। বার বার তল্লাশি চালিয়েও, চারিদিক একেবারে খুঁড়ে ফেললেও রামমন্দির থেকে চুরি করা সোনা এবং রুপোর গয়নার খোঁজ মেলেনি। আর তাতেই সন্দেহ দৃঢ় হচ্ছে। (Ram Temple Theft)

রামমন্দিরে চুরির তদন্ত কোন পথে?

Continues below advertisement

তদন্তে নেমে রামমন্দিরে পৌঁছন SIT আধিকারিকরা। সেখানে ‘রামলাল্লা’র পুজোও করেন তাঁরা। মন্দিরের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক কেডি বাবুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।  গয়না এবং মূল্যবান জিনিসপত্রের দেখভাল, রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন করা হয় তাঁকে। গয়না এবং মূল্যবান জিনিসপত্রের রেকর্ড দেখতে চান তদন্তকারীরা। সরকারের মালিকানাধীন প্রিন্টিং এবং মিন্টিং কর্পোরেশনের সঙ্গে লেনদেনের হিসেবও চাওয়া হয়। কোথায় কী রাখা হয়েছিল, পাঠানো হয়েছিল, তারও রেকর্ড দেখতে চান তদন্তকারীরা। 

আরও পড়ুন: ইথানল মিশ্রিত E20 পেট্রোল কেনায় আপত্তি, ভারতকে জানিয়ে দিল ভুটান, কারণ কী?

কত সোনা, কত রুপো?

শুধু তাই নয়, তদন্তে জানা গিয়েছে, “শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্রে ট্রাস্ট‘ নগদ এবং আয়ের হিসেব রাখত। বৈঠকে সেই নিয়ে বিশদ আলোচনাও হতো, সব তথ্য, রেকর্ড তুলে ধরা হতো। কিন্তু সোনা, রুপো এবং অন্য মূল্যবান দানসামগ্রী নিয়ে নিয়মিত কোনও বৈঠক হতো না।

প্রথম পর্যায়ে ট্রাস্টের তরফে ৯৪৪ কেজি রুপো পাঠানো হয়েছিল সরকারি টাঁকশালে, যাতে সেগুলি পরীক্ষা করে দেখা যায় এবং গলিয়ে গুণমান পরীক্ষা করে দেখা যায়। ট্রাস্টের প্রাক্ত সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই আগেই জানিয়েছেন যে, দানবাবদ ১৩ কুইন্টাল রুপো এবং ২০ কেজি সোনা পেয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু চুরি হওয়া গয়না গেল কোথায়? এই প্রশ্নের উত্তর মিলছে না। আবারও নতুন করে দানসামগ্রী, মন্দির তৈরির খরচ অডিট করে দেখা হতে পারে। 

আরও পড়ুন: ‘ঘুমিয়ে গেছে শ্রান্ত হয়ে…’, ইরানে আলি খামেনেইয়ের শেষযাত্রায় জনসমুদ্র, পাশের ছোট্ট কফিনে কে?

গত ৭ জুন রামমন্দিরের টাকা তছরুপ এবং চুরির বিষয়টি সামনে আসে। এর পর উত্তরপ্রদেশের সরকার SIT গঠন করে। প্রাথমিক ভাবে ২৫ জুন একটি এফআইআর দায়ের হয়। এখনও পর্যন্ত আট জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গোটা ঘটনায় রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে উত্তরপ্রদেশে। বিজেপি-র অভিভাবক সংস্থা RSS এই ঘটনায় দোষীদের কড়া শাস্তির দাবি তুলেছে।