নদিয়া:  নির্বাচন একেবারে দোরগোড়ায়। হাতে আর এক মাসও সময় নেই। তাই প্রস্তুতি একেবারে তুঙ্গে। আর এই নির্বাচনী কাজের প্রশিক্ষণে এসে আক্রান্ত হলেন এক ভোটকর্মী। পেশায় তিনি শিক্ষক। শুক্রবার নদিয়ার রানাঘাটে তাঁকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। মেরে মাথাও ফাটিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

Continues below advertisement

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে, প্রশিক্ষণ শুরুর আগে যখন জায়ান্ট স্ক্রিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ও দিঘার জগন্নাথ ধাম সংক্রান্ত কিছু ভিডিয়ো দেখানো হচ্ছিল। এর প্রতিবাদ করেন সৈকত। তারপর তাঁর সঙ্গে ঝামেলা শুরু করেন প্রশিক্ষণের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী-আধিকারিকেরা। অভিযোগ, প্রশ্ন তুললেই তাঁকে মারধর করা হয়। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা ও ভবানীপুর কেন্দ্রের প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে লেখেন, 'মমতার শাসনকালে গুন্ডারা প্রশাসন চালাচ্ছে।' 

তিনি লেখেন, ' নদিয়া জেলার রানাঘাট দেবনাথ ইনস্টিটিউশন ফর বয়েজ-এ একটি ভোটের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সময় শ্রী সৈকত চ্যাটার্জী নামে এক প্রাথমিক শিক্ষককে শুধুমাত্র প্রতিবাদ ও আওয়াজ তোলার সাহস দেখানোর জন্য নির্মমভাবে মারধর করে রক্তাক্ত করা হয়। তাঁর অপরাধ ছিল, তিনি ভোটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে একটি বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের বিরোধিতা করেছিলেন। '

Continues below advertisement

শুভেন্দু আরও বলেন, ' এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটাই TMC-র সংস্কৃতি, যেখানে নির্বাচন-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের সময় নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ এবং সাংবিধানিকভাবে সঠিক কর্তব্য পালনের জন্য একজন সাধারণ শিক্ষককে মারধর ও হুমকি দেওয়া হয়। '

তৃণমূল সরকারকে কটাক্ষ করে শুভেন্দু আরও বলেন, 'মমতার শাসনকালে গুন্ডারা প্রশাসন চালাচ্ছে।' 'শিক্ষক, ডাক্তার, সাধারণ নাগরিক প্রশ্ন তুললে কেউই নিরাপদ নন।'

শুভেন্দু অধিকারী ভারতের নির্বাচন কমিশনকে এই ঘটনা নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এই গুরুতর ঘটনাটির অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং দোষীরা যাতে যথাযথ শাস্তি পায়, সেই ব্যবস্থাও গ্রহণ করতে হবে বলে জানান। এছাড়াও, হামলা, হুমকি এবং হত্যার চেষ্টার মতো সমস্ত ধারায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে FIR দায়ের করতে হবে বলেও লিখেছেন তিনি।  সেখানে উপস্থিত এক প্রশিক্ষণরত ভোটকর্মী জানান, 'আমরা এক নির্বাচনের কাজ করছি। এর অর্থ আমরা এখন নির্বাচন কমিশনের আওতায়। অথচ আমাদের মতো সাধারণ ভোটকর্মীদের সঙ্গে প্রশাসন বিরোধিতা করা শুরু করেছে। আজ বিডিও সাহেবের উপস্থিতিতে যে ঘটনাটি ঘটল তা নিন্দাজনক।'