কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি এবার ইডি-রাজ্য পুলিশ সংঘাত পড়শি রাজ্যতেও। সেখানে সোজা ইডি-র অফিসেই তল্লাশি অভিযান চালাল রাঁচির এয়ারপোর্ট থানার পুলিশ। অভিযোগ, পুরসভার এক ক্লার্ককে মারধর করেন ED অফিসাররা। সেই ঘটনাতেই অভিযোগ পেয়ে সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য তথ্য সংগ্রহে ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের দপ্তরে হানা দিয়েছিল পুলিশ। এবার ইডি রাজ্য পুলিশের এই পদক্ষপের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি পিটিশন দায়ের করেছে।বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে শুক্রবার অর্থাৎ ১৬ তারিখ এই আবেদনের শুনানি করবে হাইকোর্ট। 

Continues below advertisement

এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর দায়ের করা আবেদনে গোটা ঘটনার সিবিআই তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। আবেদনটি দায়ের করেছেন ইডির অ্যাসিসটেন্ট ডিরেক্টর প্রতীক। বৃহস্পতিবার বিচারপতি এসকে দ্বিবেদীর আদালতে, ইডির আইনজীবী এ কে দাস এবং সৌরভকুমার মৌখিকভাবে যুক্তি দেন যে পশ্চিমবঙ্গের মতো পরিস্থিতি ঝাড়খণ্ডেও করা হচ্ছে। যেখানে রাজ্য পুলিশ ইডি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে এবং এখন তদন্তের নামে ইডি অফিসের দ্বারস্থ হচ্ছে। আবেদনে বিমানবন্দর থানায় পিএইচইডি কর্মচারী সন্তোষ কুমারের দায়ের করা এফআইআর বাতিল এবং রাজ্য পুলিশের তদন্ত স্থগিত করার দাবি জানানো হয়েছে।                                  

জানা গিয়েছে, জল সরবরাহ কেলেঙ্কারির তদন্ত করছে ইডি। এর মাঝেই রাঁচি পুলিশের একটি দল ১৫ জানুয়ারী সকালে বিমানবন্দর রোডে অবস্থিত ইডি-র অফিসে হানা দেয়। বিশাল বাহিনী নিয়ে পৌঁছায় তাঁরা। দাবি, জল সরবরাহ কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত সন্তোষ কুমারের করা অভিযোগের তদন্ত করছে পুলিশ। অভিযোগে যেখানে বলা হয়েছে, ইডি আধিকারিকরা জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁকে হেনস্তা করেছে। 

Continues below advertisement

ইডি এবং রাজ্য পুলিশের মধ্যে আইনি এবং প্রশাসনিক সমস্যা নতুন নয়। এর আগে, বেআইনি খনন এবং সাহেবগঞ্জ টোল টেন্ডার মামলায় ইডি-র সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে রাজ্য পুলিশ। 

এদিকে, পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য পুলিশ এবং ইডির মধ্যে সমস্যা দেখা দিয়েছে আইপ্যাক অফিসে তথ্য সংগ্রহের অভিযানে নেমে। সেই জল প্রথমে হাইকোর্ট, এরপর সুপ্রিম কোর্ট অবধি গড়ায়। এদিন সেই মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা এও বলেন, “এই মামলায় অনেক বৃহত্তর প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। অনেক সংগত প্রশ্নও রয়েছে। এর মীমাংসা না হলে ভবিষ্যতে আইনের শাসন ভেঙে পড়বে। বিভিন্ন রাজ্যে, বিভিন্ন সরকার প্রশাসন চালায়। কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা দেশ জুড়ে তদন্ত করেন।"