নয়াদিল্লি: ধর্ষণ মামলায় ২০ বছরের সাজা হয়েছে। কিন্তু পর পর প্যারোলে ছাড়া পেয়েই চলেছেন ‘ডেরা সাচা সওদা’ প্রধান গুরমীত রাম রহিম। হরিয়ানা বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্যারোলে জেল থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন। এবার ৫ ফেব্রুয়ারি দিল্লি নির্বাচনের আগেও প্যারোলে জেল থেকে বেরিয়ে এলেন রাম রহিম। ৩০ দিনের প্যারোলে এবার জেল থেকে ছাড়া পেলেন তিনি। (Gurmeet Ram Rahim Parole)

মঙ্গলবার ভোর ৫টা বেজে ২৬ মিনিটে কড়া নিরাপত্তায়, অত্যন্ত গোপনে জেল থেকে বেরিয়ে এসেছেন রাম রহিম। রীতিমতো কনভয় চেপে জেল থেকে বেরোন তিনি। আপাতত হরিয়ানার সিরসায় ‘ডেরা সাচা সওদা‘র আশ্রমে তিনি থাকবেন বলে জানা গিয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত এই নিয়ে প্রায় ১৬ বার প্যারোলে জেল থেকে ছাড়া পেলেন রাম রহিম। (Gurmeet Ram Rahim Singh)

ধর্মীয় সংগঠন হলেও, রাজনৈতিক ভাবেও ‘ডেরা সাচা সওদা’ বেশ প্রভাবশালী। উত্তর ভারতের হিন্দিভাষী রাজ্যগুলিতে ওই সংস্থা এবং রাম রহিমের বেশ প্রভাব এবং প্রতিপত্তি রয়েছে। গত বছর হরিয়ানা বিধানসভা নির্বাচনের চার দিন আগেও ২০ দিনের প্যারোলে জেল থেকে বেরিয়ে আসেন রাম রহিম। হরিয়ানায় বিজেপি-র সরকার গঠনের নেপথ্যে রাম রহিমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে সেই সময় জানান রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এবার দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফের রাম রহিমের প্যারোল প্রাপ্তি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

রাম রহিমের প্যারোল প্রাপ্তি নিয়ে মুখ খুলেছেন শিবসেনা (উদ্ধব ঠাকরে) শিবিরের সাংসদ প্রিয়ঙ্কা চতুর্বেদি।  তাঁর কথায়, ‘ওঁকে ছেড়েই দিন একেবারে। অন্তত প্যারোলের নামে এই প্রহসন থেকে রেহাই মিলবে। নির্যাতিতা মহিলাদের ন্যায় বিচারে দেওয়ার নামে প্রহসনও ঘুচবে’।

এবারে রাম রহিমের প্যারোল প্রাপ্তি সবদিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ২০১৭ সালে জেলযাত্রার পর এবারই প্রথম সিরসায় ‘ডেরা সাচা সওদা’র আশ্রমে পা রাখবেন তিনি। গত অক্টোবরে প্যারোলে বেরোলেও হরিয়ানায় পা রাখার অনুমতি ছিল না তাঁর। সেবার উত্তরপ্রদেশের বাগপতের আশ্রমে ছিলেন তিনি। এবার আর কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। ইতিমধ্যে ভিডিও বার্তায় প্রকাশ করেছেন রাম রহিম। পুণ্যার্থীদের আশ্রমে না আসতে আনুরোধ করেছেন।

হরিয়ানার সিরসায় ডেরা-র আশ্রমে দুই মহিলা শিষ্যাকে ধর্ষণের দায়ে ২০ বছরের জেল হয় রাম রহিমের। পাশাপাশি, একাধিক খুনের মামলাও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। কিন্তু বারং বার আদালত থেকে প্যারোল আদায় করে নিয়েছেন তিনি। বার বার তাঁর প্যারোল এবং ছুটির আবেদন মঞ্জুর করা নিয়ে আদালতে মামলাও জমা পড়েছিল। কিন্তু রাম রহিমের প্যারোল পাওয়া আটকে থাকেনি।