সন্দীপ সরকার, ঝিলম করঞ্জাই ,কলকাতা : ভয়ঙ্কর মৃত্যু ! ছেলের চিকিৎসা করাতে এসে মর্মান্তিক মৃত্যু। ছটফট করতে করতে শেষ হয়ে যাওয়া। আরজি কর হাসপাতালের লিফটে আটকে মৃত্যু হওয়া ব্যক্তির পোস্টমর্টেমে ভয়ঙ্কর তথ্য উঠে এসেছে। রিপোর্টে পলি ট্রমার উল্লেখ রয়েছে। কী এই পলিট্রমা। মৃত্যুর সময় শরীরের ভেতর কোন কোন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেটা জেনে নেওয়া যাক।
লিফটে কী ঘটে?
অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে লিফটে করে দোতলা থেকে সাত তলায় উঠছিলেন। হঠাৎই লিফট দোতলা পার হওয়ার পর যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দেয় এবং সেটি আচমকা নিচের দিকে নামতে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই লিফট সোজা বেসমেন্টে গিয়ে থামে এবং দরজা খুলে যায়। কিন্তু সেখানেই বিপত্তি। বেসমেন্টে লিফটের সামনে লোহার গ্রিলে তালা লাগানো ছিল, ফলে লিফটের ভিতরে আটকে পড়েন তিনজনই। শুধু তাই নয়, বেসমেন্টে নামার সিঁড়ির গেটেও তখন তালা ঝুলছিল। ফলে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তাঁরা লিফটের ভিতরে আটকে থাকেন। অভিযোগ, এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে হাসপাতালের কোনো কর্মী বা পুলিশ এসে তালা খুলে তাঁদের উদ্ধার করার চেষ্টা করেননি। চরম আতঙ্কের মধ্যে পড়ে অরূপ লিফটের দুই দরজার মাঝখান দিয়ে বেরোনোর চেষ্টা শুরু করেন। এই সময় আচমকাই লিফটের দরজা বন্ধ হয়ে যায় এবং সেটি উপরের দিকে উঠতে শুরু করে। দরজার মাঝে আটকে পড়েন অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর শরীরের একটি অংশ লিফটের ভিতরে এবং বাকি অংশ বাইরে আটকে যায়। লিফট উপরে উঠতে থাকায় তিনি বাইরের দেওয়ালে ধাক্কা খেয়ে গুরুতরভাবে জখম হন। লিফটটি বেসমেন্ট থেকে একতলা পর্যন্ত পুরোপুরি উঠতে না পেরে মাঝপথে আবার আটকে যায় এবং কিছুক্ষণ পর আবার নিচে বেসমেন্টে নেমে আসে। তখন গুরুতর জখম অবস্থায় লিফটের মেঝেতে পড়ে যান অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়।
কোথায় কোথায় আঘাত
ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ হিসেবে পলিট্রমার উল্লেখ করা হয়েছে। কী সেই পলিট্রমা? একাধিক আঘাতের কারণে মৃত্যু হয়েছে অরূপ বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, তাঁর পাঁজরের বেশিরভাগ হাড় ভেঙে গেছে। হাতের হাড়, পায়ের হাড় ভেঙেছে। ফুসফুস ফেটে গেছে। আঘাত লেগেছে হৃদযন্ত্র, লিভারেও। সবমিলিয়ে ভয়াবহ মৃত্যু।
শুক্রবার সন্ধেয় বাড়িতে পৌঁছোয় অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃতদেহ।
