নয়াদিল্লি: আগে থেকে সতর্ক করেছিলেন গোয়েন্দারা। তার পরও কাশ্মীরে রক্তপাত এড়ানো গেল না। জঙ্গিদের হামলায় প্রাণ গেল ২৬ জন নিরীহ জঙ্গির। গোটা ঘটনায় উপত্যকার নিরাপত্তা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠছে, প্রশ্ন উঠছে সরকারের অবস্থান নিয়েও। আর সেই আবহেই কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে সরব হলেন কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়ঙ্কা গাঁধী বঢরার স্বামী রবার্ট বঢরা। কাশ্মীরে যেভাবে বেছে বেছে হিন্দু পর্যটকদের হত্যা করা হয়েছে, তার জন্য বিভাজনের রাজনীতিকে দায়ী করেছেন তিনি। (Robert Vadra on Kashmir Attack)
কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে যে হামলার ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়ে সংবাদ সংস্থা ANI-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মুখ খোলেন রবার্ট। তিনি বলেন, "খুব খারাপ লাগছে। দেশের অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন আমি। জঙ্গি হামলায় যাঁরা মারা গিয়েছেন, তাঁদের পরিবারকে সমবেদনা জানাই। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। আমার মনে হয়, সন্ত্রাসী হামলা আসলে এক ধরনের দুর্বলতা। নিরীহ নাগরিকদের হত্যা করার নেপথ্যে কোনও উদ্দেশ্য থাকতে পারে না। এই ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে সকলকে একজোট হতে হবে, এই ধরনের সংগঠনগুলিকে রুখতে হবে।" (Pahalgam Attack)
জঙ্গি হামলা নিয়ে নিজের ভাবনাও তুলে ধরেন রবার্ট। তিনি জানান, কংগ্রেস বা তাঁর পরিবার কী ভাবছে, তা জানা নেই তাঁর। কিন্তু ব্যক্তিগত ভাবে তিনি মনে করেন, মেরকরণের রাজনীতিও এই ধরনের ঘটনার জন্য দায়ী। রবার্টের বক্তব্য, "আমার ভাবনা একটু অন্য। এটা আমার পরিবার বা কংগ্রেসের ভাবনা নয়, আমার ব্যক্তিগত ভাবনা। আমরা দেখতে পাচ্ছি, এই সরকার হিন্দুত্বের কথা বলে। মসজিদ সমীক্ষা করিয়ে, তাদের প্রার্থনায় বিধিনিষেধ আরোপ করে সংখ্যালঘুদের অস্বস্তিতে রাখা হয়। এসব সমাদের স্থিতিশীলতা নষ্ট করে, সাম্প্রদায়িক অশান্তি বাধে।"
কাশ্মীরের হামলার প্রসঙ্গে রবার্ট বলেন, "কাশ্মীরের হামলার এই ঘটনাটি যদি দেখেন, জঙ্গিরা মানুষের পরিচয় জানতে চাইছে। পরিচয় জানতে চাইছে কেন? কারণ আমাদের সমাজে বিভাজন তৈরি হয়েছে, হিন্দু-মুসলিম...এমনকি খ্রিস্টানও। ইস্টারে গির্জা পোড়ানো, পাদরিদের বিব্রত করার ভিডিও দেখলাম। এগুলো কী? এই সাম্প্রদায়িক বৈপরীত্য কেন? এতে বিভাজন তৈরি হবে। এই ধরনের সংগঠনগুলির ভাবতে সুবিধা হবে যে, হিন্দুরা মুসলিমদের জন্য সমস্যা তৈরি করছে। আমাদের এর কোনও প্রয়োজন নেই। এমনি জিজ্ঞেস করে দেখুন, হিন্দু-মুসলিম পরস্পরকে সাহায্য় করেন। কোভিডের সময়ও আমরা দেখেছিলাম সেই ছবি। ভোটের জন্য বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির প্রয়াস বোঝেন না ওঁরা।"
পহেলগাঁওয়ে যেভাবে পরিচয় জেনে হিন্দুদের হত্যা করা হয়েছে, তাতে জঙ্গিরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেই বার্তা দিয়েছে বলে মত রবার্টের। তাঁর কথায়, "পরিচয় যাচাই করে কাউকে হত্যা করা আসলে একটি বার্তা। প্রধামন্ত্রীকে বার্তা পাঠাচ্ছে। কেন? কারণ দেশে মুসলিমরা, সংখ্যালঘুরা এই মুহূর্তে নিজেদের দুর্বল মনে করছেন। সংখ্যালঘুদের প্রার্থনায় বিধিনিষেধ, তাঁদের বাড়ির নিয়মকানুনে দখলদারি, মসজিদের নীচে মন্দির খোঁজার হিড়িক, বাবর-ঔরঙ্গজেব বলে আক্রমণ, অনেকেরই এসব মনঃপুত হবে না। এতে সাম্প্রদায়িক অশান্তির পরিবেশ তৈরি হবে। এই হামলার তীব্র নিন্দা করছি আমি। নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলও সব দেখছে। সন্ত্রাস শুধু ভয় সৃষ্টি করে। মানুষ একজোট হলে সন্ত্রাস টিকতে পারবে না। আমি জানতাম সন্ত্রাসের কোনও ধর্ম হয় না। কিন্তু এই ঘটনায় যেভাবে বেছে বেছে হত্যা করা হয়েছে, তাতে বার্তা স্পষ্ট। ধর্মনিরপেক্ষতা, ঐক্যই, সৌভ্রাতৃত্বই আমাদের শক্তি। রাজনীতিতে ধর্মের অপব্যবহারের জেরেই সমস্যা। আমি মনে করি ধর্ম এবং রাজনীতিকে আলাদা রাখা উচিত। নইলে এমন ঘটনা ঘটতে থাকবে যা সব ধর্ম, সব মানুষের জন্য বিপজ্জনক। কাশ্মীর আমাদের দেশের অত্যন্ত সুন্দর জায়গা। অমরনাথ যাত্রার দিকে মুখিয়ে ছিলেন সকলে। এখন আর যেতে পারবেন না। নিরাপত্তার উপর জোর দিতে হবে আমাদের।"