নয়া দিল্লি: যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউক্রেনে সবচেয়ে বড় এয়ারস্ট্রাইক করেছে রাশিয়া। যা নিয়ে রীতিমতো রুষ্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই ঘটনা নিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের 'মাথা খারাপ হয়ে গেছে' এমনটাই বলেন ট্রাম্প। এর পাশাপাশি মস্কোকে সতর্ক করে ট্রাম্প বলেছেন, ইউক্রেন সম্পূর্ণভাবে দখলের যে কোনও প্রচেষ্টা "রাশিয়ার পতনের দিকে নিয়ে যাবে।" 

ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে বলেছেন, "রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আমার সবসময়ই খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। কিন্তু তার সঙ্গে মনে হয় কিছু একটা ঘটেছে। সে একেবারে পাগল হয়ে গেছে। সে অকারণে অনেক মানুষকে হত্যা করছে। আর আমি শুধু সেনাদের কথা বলছি না। ইউক্রেনের শহরগুলিতে কোনও কারণ ছাড়াই ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন নিক্ষেপ করা হচ্ছে। আমি সবসময় বলেছি যে তিনি পুরো ইউক্রেন চান। কেবল এর এক টুকরো নয়, এবং সম্ভবত এটি সঠিক বলে প্রমাণিত হচ্ছে, তবে যদি তিনি তা করেন তবে এটি রাশিয়ার পতনের দিকে পরিচালিত করবে।' 

ট্রাম্প অতীতে পুতিনের প্রতি প্রশংসা প্রকাশ করেছেন একাধিকবার। কিন্তু সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে কিয়েভের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি আলোচনায় মস্কোর অবস্থান নিয়ে ক্রমবর্ধমান হতাশা প্রকাশ করেছেন, যা অচলাবস্থায় রয়েছে বর্তমানে। ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে মরিসটাউন বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, 'পুতিন যা করছেন তাতে আমি খুশি নই। তিনি অনেক মানুষকে হত্যা করছেন, এবং আমি জানি না পুতিনের কী হয়েছে। আমি তাকে অনেক দিন ধরে চিনি। এখন যা করছে আমি তা মোটেও পছন্দ করছি না।' 

বেশ কিছু দিন আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ২ ঘণ্টার কথোপকথনের পর ট্রাম্প দাবি করেছিলেন দ্রুত যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে আলোচনার বসতে রাজি হয়েছে মস্কো-কিয়েভ। গত ৩ বছর ধরে যুদ্ধবিধ্বস্ত রাশিয়া ও ইউক্রেন। বাইডেন আমলের ক্ষত সারাতে ক্ষমতায় এসেই দুই দেশের যুদ্ধবিরতি করাতে তৎপর হন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই ইস্যুতে পুতিনকে ফোনও করেছিলেন তিনি। 

এরপর ট্রাম্প সোশাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন, 'আমেরিকা চায় এই রক্তপাত শেষ হওয়ার পর বৃহত্তর বাণিজ্যের পরিসর তৈরি করতে। রাশিয়ার জন্য বিপুল কর্মসংস্থান এবং সম্পদ তৈরির একটি দুর্দান্ত সুযোগ রয়েছে। একইভাবে, ইউক্রেন দেশ পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় বাণিজ্যের দিক থেকে সুবিধাভোগী হতে পারে।'