নয়াদিল্লি: ‘এপস্টিন ফাইলস’ বিতর্কে এবার নয়া মোড়। ‘এপস্টিন ফাইলসে’ নাম থাকা রুশ ধনকুবেরের রহস্যমৃত্যু। মস্কোয় তাঁর দেহ উদ্ধার হয়েছে। মাথায় গুলির দাগ পাওয়া গিয়েছে তাঁর। তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন, না কি অন্য কোনও কিছু ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। কোনও সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়নি বলে জানা গিয়েছে বলে রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর। (Epstein Files)
সোমবার ভোররাত ৩টে নাগাদ মস্কোর বিলাসবহুল আবাসন থেকে দেহ উদ্ধার হয় চেচেনের ধনকুবের তথা রাশিয়ার প্রাক্তন সেনেটর উমর জ়াব্রাইলভের। তাঁর দেহের পাশ থেকে একটি পিস্তলও উদ্ধার হয়েছে। তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে মস্কোর পুলিশ। (Umar Dzhabrailov)
সম্প্রতি ‘এপস্টিন ফাইলসে’ নাম উঠে আসে জ়াব্রাইলভের। জেফ্রি এপস্টিনের প্রেমিকা গিলেন ম্যাক্সওয়েলকে তিনি ‘সোলমেট’ বলেও উল্লেখ করেছিলেন। ফেব্রুয়ারি মাসে আমেরিকার জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট যে নথি প্রকাশ করে, তাতে বিল গেটস, বিল ক্লিন্টন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাশাপাশি জ়াব্রাইলভের নামও ছিল।
২০০১ সালে গিলেনের সঙ্গে জ়াব্রাইলভের ইমেল কথোপকথনও সামনে এসেছে। গিলেন এই মুহূর্তে জেলবন্দি রয়েছেন আমেরিকায়। নাবালিকাদের যৌন নিগ্রহে তিনিও জড়িত ছিলেন। ইমেলে জ়াব্রাইলভ জানান, গিলেনের সঙ্গে মস্কোয় দেখা করতে আগ্রহী তিনি। উত্তরে গিলেন জানায়, জেফ্রিকে নিয়ে মস্কো যাবেন তিনি।
২০২২ সালে গিলেন দোষী সাব্যস্ত হলে, প্রকাশ্যে তাকে ‘সোলমেট’ বলে উল্লেখ করেন জ়াব্রাইলভ। জানান, গিলেনই তাঁকে এপস্টিনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। গিলেনের দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় আক্ষেপও শোনা যায় তাঁর গলায়। তবে তিনি নিজে কোনও রকম অপরাধমূলক কাজকর্মে যুক্তি ছিলেন না বলে জানান জ়াব্রাইলভ।
হসপিট্যালিটি এবং রিটেল ব্যবসা থেকেই নিজের সাম্রাজ্য গড়ে তোলোন জ়াব্রাইলভ। এক সময় Radisson Slavyanskaya Hotel and Business Center-এর মালিকও ছিলেন তিনি। রুশ ফেডারেশন কাউন্সিলের সদস্যও ছিলেন ২০০৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত। চেচনিয়ার জনপ্রতিনিধি ছিলেন তিনি। ২০০০ সালে ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও নাম লেখান। কিন্তু মাত্র ০.১ শতাংশ ভোটই পেয়েছিলেন।
রুশ সংবাদমাধ্যম জ়াব্রাইলভের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করলেও, তাঁর মেয়ে আলভিনা বাবার মৃত্যুতে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “উমর জ়াব্রাইলভ আত্মহত্যা করেননি। কয়েক দিন আগেই কথা হয়েছিল। জেফ্রি এপস্টিন এবং ট্রাম্পের সঙ্গে সংযোগ থাকা নিয়ে ওঁকে জোর করে চুপ করিয়ে রাখা হয়েছিল।” শুধু তাই নয়, বছরের পর বছর তাঁর উপরও নজরদারি চলছে বলে দাবি করেন আলভিনা। তাঁর ফোনেও আড়ি পাতা হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন।
