নয়াদিল্লি : বারবার সন্ত্রাসে মদত দিয়ে গিয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের মদতপুষ্ট হয়ে বিভিন্ন সময়ে এদেশে রক্ত ঝরানোর চেষ্টা চালিয়ে গেছে জঙ্গিরা। এই অভিযোগ তুলে একাধিকবার সরব হয়েছে ভারত। সাম্প্রতিক সময়ে পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলাকে কেন্দ্র করে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের চরম অবনতি হয়। ওই হামলার জবাব 'অপারেশন সিঁদুর' চালায় ভারত। এর পাশাপাশি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আরও একাধিক পদক্ষেপ নেয় ভারত সরকার। যার জেরে চরম চাপে পড়ে শেহবাজ শরিফের প্রশাসন। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক তলানিয়ে গিয়ে ঠেকেছে। এই আবহে পরের বছর SCO সম্মেলন বা সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের আসর বসতে চলেছে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে। সেই মিটিংয়ে কি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানানো হবে ? এনিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাব দিল ইসলামাবাদ । কী বলল তারা ? India-Pakistan Relations

Continues below advertisement

এ প্রসঙ্গে এক বিবৃতিতে পাকিস্তান সরকারের বিদেশ মন্ত্রক বলেছে যে, "সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের সব সদস্য রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকার-প্রধান পর্যায়ে আমন্ত্রণ জানানো হবে, তাঁরা চাইলে সরকার-প্রধান পর্যায়েও অংশগ্রহণ করতে পারবেন। স্বাভাবিকভাবেই আমন্ত্রণ জানানো হবে এবং আয়োজক দেশ হিসেবে এটি পাকিস্তানের একটি দায়িত্ব। আমরা শীর্ষ সম্মেলনে সকল রাষ্ট্র ও সরকার-প্রধানকে আমন্ত্রণ জানাব।"

গত বছর ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকায় পর্যটকদের উপর হামলা চালিয়েছিল পাঁচ জঙ্গি। ধর্ম পরিচয় জেনে ধরে ধরে খুন করে মোট ২৬ জনকে। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন হিন্দু। একজন ছিলেন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী, অন্য আর একজন ছিলেন মুসলিম। M4 কার্বাইন এবং AK-47 দেগে গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয় সকলকে। হামলার দায় স্বীকার করে The Resistance Front, যারা পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার শাখা। এই ঘটনার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জোরাল পদক্ষেপ করে ভারত।

Continues below advertisement

ওই বছরই ৭ মে গভীর রাত ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযানের সূচনা করে ভারত। পাক অধিকৃত কাশ্মীর এবং পাকিস্তানে ঢুকে জঙ্গিদের নয়টি শিবির গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় বাহওয়ালপুরে জইশ-ই-মহম্মদের সদর দফতর মরকজ সুভান। জঙ্গি নিয়োগ থেকে প্রশিক্ষণ, মগজধোলাই, সব চলত সেখান থেকেই। মুরিদকে-তে লস্কর-ই-তৈবার মরকজ তৈবা, সিয়ালকোটে হিজবুল মুজাহিদিনের মেহমুনা জোয়া ক্যাম্প, মুজফ্ফরাবাদে জইশের সৈয়দনা বেলাল ক্যাম্প, কোটলিতে লস্করের গুলপুর ক্যাম্প, আব্বাস ক্যাম্প, ভিম্বেরের অস্ত্র প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বরনালা ক্যাম্প, লস্করের সাওয়াই নালা ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দেয় ভারত। পাকিস্তানের তরফে পাল্টা ঝাঁক ঝাঁক ড্রোন ছোড়া হয়। ভারত কড়া হাতে তার মোকাবিলা করে।