মুম্বই : মহারাষ্ট্রের উপ মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের মৃত্যুতে বিভিন্ন মহল থেকে ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব উঠে আসছিল। যদিও সেসব জল্পনায় জল ঢেলে দিলেন তাঁর কাকা শরদ পাওয়ার। 'এটা সম্পূর্ণ দুর্ঘটনা' বলে মত তাঁর। ভাইপোর মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন বর্ষীয়ান রাজনীতিক। দুর্ঘটনার পর প্রথম বক্তব্যে শরদ পাওয়ার বলেন, "এর মধ্যে কোনও ষড়যন্ত্র নেই। এটা সম্পূর্ণ একটা দুর্ঘটনা। অজিত পাওয়ারের মৃত্যুতে মহারাষ্ট্রের বিরাট ক্ষতি হয়েছে। একজন দক্ষ নেতা আজ আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। মহারাষ্ট্র আজ একজন মহান ব্যক্তিত্বকে হারাল। এই ক্ষতি কখনোই পূরণ করা যাবে না।"

Continues below advertisement

কয়েক দশক ধরে মহারাষ্ট্রের সমবায় আন্দোলন, গ্রামীণ রাজনীতি এবং মুম্বই ও দিল্লিতে ক্ষমতার সমীকরণ পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পাওয়ার পরিবার। বরাবর ঐক্যবদ্ধ থাকা এই পরিবারে ২০২৩ সালে ভাঙন ধরে। ওই বছর কাকার হাত ছেড়ে বিজেপির হাত ধরেন অজিত পাওয়ার। যার জেরে ভাঙন ধরে ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টিতে। যদিও সম্প্রতি কাছাকাছি আসে NCP-র দুই শিবির। পুণে এবং পিম্পরি-ছিনছওয়াড পৌরনিগমের ভোটে উপলক্ষ্যে। এরপরই ঘটে গেল দুর্ঘটনা।

এ প্রসঙ্গে ৮৫ বছরের বর্ষীয়ান রাজনীতিক শরদ পাওয়ার বলছেন, "সবকিছু আমাদের হাতে নেই। আমি অসহায় বোধ করছি। কান্না লজ্জাজনক মনে হতে পারে। কিছু ঘটনার পিছনে কোনও রাজনীতি থাকে না, এবং আমি স্পষ্টভাবে এই বিষয়ে আমার অবস্থান জানিয়েছি। এতে কোনও ষড়যন্ত্র জড়িত নয়; এটি সম্পূর্ণরূপে একটি দুর্ঘটনা। মহারাষ্ট্র এবং আমাদের সকলকে চিরকাল এর যন্ত্রণা বহন করতে হবে।"

Continues below advertisement

নির্বাচনী প্রচারে বারামতীতে যাচ্ছিলেন অজিত পাওয়ার। মহারাষ্ট্রের জেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রচারে বুধবার বারামতীর একটি জনসভায় যোগ দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। সকাল ৮টা নাগাদ মুম্বই বিমানবন্দর থেকে ওড়ে অজিত পাওয়ারের বিমান। দুর্ঘটনার আগে এক বার অবতরণের চেষ্টা করেছিল বিমানটি। দুর্ঘটনার পরই আগুন দেখা যায় দুর্ঘটনাস্থলে, সঙ্গে ধোঁয়ার কুণ্ডলী। আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশে। পরপর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ক্ষণিকের মধ্যেই ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা। দুর্ঘটনায় মৃত্য়ু হয় মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার-সহ বিমানে থাকা ৫ জনেরই। তবে কীভাবে মৃত্যু ? শেষ মুহূর্তে বিমানের অন্দরে ঠিক কী হয়েছিল ? ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে DGCA. এই আবহে, সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে যথাযথ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।