ঢাকা: শেখ হাসিনার ফাঁসির সাজা ঘোষণার পর থেকেই অশান্ত বাংলাদেশ। কিশোরগঞ্জে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। আওয়ামি লিগের নেতা মান্নান মাতুব্বর ও তার ভাইয়ের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতির জন্য ফের একবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ইউনূসকে দায়ী করেছেন শেখ হাসিনা। মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি ঘোষণার পর বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল তাঁর সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। 

Continues below advertisement

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিও ভেঙে ফেলা হয়.. যদিও সেই সময় বাড়িতে কেউ ছিলেন না। 

সূত্রের খবর, সম্প্রতি বাংলাদেশের এক সংবাদমাধ্যমে দাবি  করা হয়েছে, একসময়ে বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনা তাঁর সম্পত্তির বিস্তারিত হলফনামা দিয়েছিলেন। সেখানে সেসময় জানা গিয়েছিল, হাসিনার নামে মোট ৪ কোটি ৩৪ লক্ষ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। ঠিক সেসময় হাসিনার হাতে নগদ ২৮ হাজার টাকা এবং ২৫ লক্ষ টাকার সঞ্চয় করা সেই সঙ্গে ৫৫ লক্ষ টাকার স্থায়ী আমানত ছিল। 

Continues below advertisement

পাশাপাশি হলফনামা অনুযায়ী জানা গিয়েছে, উপহার পাওয়া নিয়ে শেখ হাসিনার মোট তিনটি গাড়ি আছে। প্রায় ১০ লক্ষ টাকার কাছাকাছি বাড়ির আসবাবপত্র রয়েছে। এছাড়াও প্রায় ১৫.৩ বিঘা কৃষিজমি রয়েছে তাঁর। এর মধ্যে একটি উপহারের। সেটির দাম দেখাননি। বাকি দুটির দাম দেখিয়েছিলেন সাড়ে ৪৭ লাখ টাকা। সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দাম দেখিয়েছিলেন ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা। নিজের আসবাবের দাম ৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা দেখিয়েছিলেন তিনি। হলফনামা অনুযায়ী, ঢাকার পূর্বাচলে একটি প্লট রয়েছে শেখ হাসিনার নামে, যার দাম ৩৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। সেই সঙ্গে মৌচাকে ৯ বিঘার মত একটি বাগানবাড়ি আছে হাসিনার। 

হলফনামায় শেখ হাসিনা তিনতলা ভবনসহ ৬ দশমিক ১০ শতক (আংশিক) জমি নিজের নামে দেখিয়েছেন। এই জমি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। এর মূল্য দেখানো হয়েছে ৫ লাখ টাকা।

এ ছা়ড়া, ঢাকার পূর্বাচলে হাসিনার নামে একটি ৩৫ লাখি জমি রয়েছে। হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন তাঁর পুত্র, কন্যা, বোন এবং বোনের সন্তানদের প্রত্যেকের নামে পূর্বাচলে ১০ কাঠা করে প্লট অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। অর্থাৎ সব মিলিয়ে মুজিব পরিবারের ছ’জন মোট ৬০ কাঠা জমি ‘অনৈতিক ভাবে’ পেয়েছেন বলে দাবি। সে সব নিয়ে মামলা-মোকদ্দমাও চলছে।