সোমবার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফাঁসির সাজা ঘোষণা করেছে ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তারপর থেকেই অশান্ত বাংলাদেশ। কিশোরগঞ্জে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। আওয়ামি লিগের নেতা মান্নান মাতুব্বর ও তার ভাইয়ের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতির জন্য ফের একবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ইউনূসকে দায়ী করেছেন শেখ হাসিনা।

Continues below advertisement

তিনি স্পষ্টই জানিয়েছেন, 'আমার অপরাধটা কী, সেটাই তো আমি জানি না। আমার ওপর নানা ধরনের অত্য়াচার চালাল। সে যুগ যুগ ধরে, ১০-২০ বছর ধরে খালি অপপ্রচারই চালাচ্ছে। দেশের মানুষের কাছে আমি কৃতজ্ঞতা জানাই, এই অপপ্রচারে তারা কান দেয়নি। মুষ্টিমেয় লোক তারা নেমে পড়েছিল। তখন শুধু বলেছিলাম, আমি যখন থাকব না, তখন দেখবে দেশের অবস্থা কী হয়। ঠিক তাই হল। ইউনূসের তো দেশ চালানোর কোনও যোগ্যতাই নেই। সে সুদ খেতে জানে।' 

হাসিনাপুত্র সজীবও মায়ের সুরেই কথা বলেছেন। ক্ষুরধার আক্রমণ শানিয়েছেন বাংলাদেশের বর্তমান দণ্ডমুণ্ডের কর্তাদের বিরুদ্ধে। হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় তাঁর মায়ের মৃত্যুদণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। সজীবের কথায়, এটি কোনও ন্যায় বিচার নয়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা! ইন্ডিয়া টুডে-কে দেওয়া প্রথম সাক্ষাৎকারে সজীব বলেন, এটা ন্যায়বিচারের নামে সম্পূর্ণ উপহাস। 

Continues below advertisement

হাসিনাপুত্র সজীব বহু বছরই কর্মসূত্রে আমেরিকায় থাকেন। সেখান থেকেই ইন্ডিয়া টুডে-কে  সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তিনি। হাসিনা-পুত্রের দাবি, এই বিচার প্রক্রিয়া মোটেই স্বচ্ছ ছিল না। এই সাজা যে তাঁকে দেওয়া হবে, তা সকলেই জানতেন, আগে থেকেই ঠিক করা ছিল। তাড়াহুড়ো করে বিচার প্রক্রিয়া শেষ করা হয়েছে। সজীব প্রশ্ন তুলেছেন, কীভাবে বর্তমানে বাংলাদেশের অনির্বাচিত, অসাংবিধানিক এবং অগণতান্ত্রিক সরকার কোনও আইন সংশোধন করে?নির্বাচিত সংসদ ছাড়া তা সম্ভব নয়।  

হাসিনাপুত্র বলেন,  এখব আর বাংলাদেশে আইনের শাসন নেই। এই মৃত্যুদণ্ডের আদেশ ন্যায়বিচারের জন্য দেওয়া নয়। বরং একেবারে প্রতিশোধ স্পৃহা থেকেই এমনটা করা হয়েছে। বাংলাদেশের গত ৫ অগাস্টের পর থেকেই আওয়ামী লিগের সমর্থকদের অবস্থা শোচনীয়। তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।মারা হয়েছে। একের পর এক মামলা দায়ের হয়েছে হাসিনাপন্থীদের বিরুদ্ধে।  সজীব ওয়াজেদ দাবি করেন, হাসিনাকে তাঁর নিজের আইনজীবী বেছে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। বরং, আদালত কার্যকরভাবে তাঁর জন্য একটি আইন আরোপ করেছে। এটি ন্যায়বিচারের সম্পূর্ণ উপহাস।