গুয়াহাটি : সামনে জ্বলজ্বল করছে আরামদায়ক স্পা-পরিষেবার বোর্ড। কিন্তু পিছনে চলছিল অসাধু ব্যবসা। শহরের দুটি ম্যাসাজ পার্লার (স্পা সেন্টার)-এ হানা দিয়ে ২৮ জন মহিলাকে গ্রেফতার করল পুলিশ। দেহব্যবসার অভিযোগে বড়সড় অভিযান চালাল কাছাড় জেলা পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। এই ঘটনার নেপথ্যে আন্তঃরাজ্য মানব পাচার চক্র সক্রিয় থাকতে পারে বলেও সন্দেহ করছে পুলিশ। কাছাড় জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) রজত পাল সংবাদ মাধ্যমকে জানান, বৃহস্পতিবার রাতে শিলচরের দুটি স্পা সেন্টারে অভিযান চালিয়ে ওই মহিলাদের আটক করা হয়। পরে সকলকে জেলা আদালতে তোলা হয় এবং পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছে।
একাধিক ধারায় মামলা
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রতারণা, অশালীন কাজ, সরকারি কর্মীর কাজে বাধা, জনউপদ্রব এবং সংগঠিত অপরাধ-সংক্রান্ত ধারা। এছাড়াও, Immoral Traffic (Prevention) Act, 1956-এর অধীনেও মামলা করা হয়েছে। স্পা সেন্টারের মালিকদের বিরুদ্ধেও এই আইনের বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মানব পাচারের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রজত পাল সংবাদমাধ্যমকে জানান, ধৃত মহিলাদের অধিকাংশই শিলচরের বাসিন্দা নন। তাঁদের দেওয়া নথি অনুযায়ী, অনেকেই অসমের জোরহাট, শোণিতপুর, কামরূপ-সহ বিভিন্ন জেলা থেকে এসেছেন। এছাড়া দু'জন নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরের বাসিন্দা বলে দাবি করেছেন। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এঁদের মধ্যে অনেকে নিজেরাও মানব পাচারের শিকার হয়ে থাকতে পারেন। সেই সম্ভাবনাও তদন্তে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
আগে থেকেই নজরে ছিল একাধিক স্পা
পুলিশ সূত্রে খবর, শিলচর শহর ও সংলগ্ন এলাকায় কিছু ম্যাসাজ পার্লারে বেআইনি কার্যকলাপের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই আসছিল। এই বিষয়ে খোঁজখবর রাখছিল পুলিশ। সম্প্রতি কয়েকটি গ্রেফতারের পর তদন্ত আরও জোরদার করা হয়। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই বৃহস্পতিবার রাতে বড়সড় অভিযান চালানো হয়। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, এই ঘটনার সঙ্গে কোনও সংগঠিত আন্তঃরাজ্য মানব পাচার চক্র জড়িত কি না। পাশাপাশি ধৃত মহিলাদের প্রত্যেকের ভূমিকা এবং তাঁরা আদৌ জোরপূর্বক এই কাজে যুক্ত হয়েছিলেন কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।উল্লেখ্য, অভিযোগ এখনও আদালতে বিচারাধীন । তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তদের দোষী বা নির্দোষ হওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে আদালত।
