কলকাতা: ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন বা SIR-এর নামে ভোটারদের হেনস্থা করার অভিযোগ ভূরি ভূরি। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ থেকে হয়রানি, হেনস্থার অভিযোগ উঠে আসছে নিত্য দিন। এই আবহেই উত্তরপ্রদেশে SIR-শুনানি নিয়ে নয়া সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। বলা হয়েছে, খসড়া তালিকায় নাম রয়েছে যাঁদের, অথচ শুনানিতে ডাক পড়েছে, চাইলে সশরীরে হাজির নাও হতে পারেন তাঁরা। পরিবর্তে নিজের কোনও প্রতিনিধিকে পাঠিয়ে দিতে পারেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রতিনিধি হিসেবে শুনানিতে হাজিরা দিতে পারেন রাজনৈতিক দল দ্বারা নিযুক্ত স্থানীয় BLA-ও। (SIR in Uttar Pradesh)

Continues below advertisement

উত্তরপ্রদেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক নভদীপ রিনওয়া শুক্রবার এই ঘোষণা করেন। তিনি জানান, ২০০৩ সালের সঙ্গে ২০২৬ সালের তথ্য় মিলছে না যাঁদের, তাঁদের নোটিস পাঠানো হচ্ছে। কোনও ভোটার যাতে বাদ না পড়ে যান, সকলেই যাতে SIR প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন, তার জন্য তথ্যযাচাই প্রক্রিয়া সংক্রান্ত বিধিনিয়ম শিথিল করা হয়েছে। শুনানিতে ডাক পেলে সশরীরে হাজিরা দেওয়া আর বাধ্যতামূলক রইল না। বরং কোনও প্রতিনিধিকে পাঠিয়ে দিতে পারেন ভোটাররা। শুধু ভোটারের সই করা বা আঙুলের ছাপ দেওয়া চিঠি দেখাতে হবে ওই প্রতিনিধিকে। চলতি সপ্তাহেই এই নির্দেশ কার্যকরা করা নিয়ে নির্দেশ জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন নভদীপ। (Uttar Pradesh SIR)

নভদীপ জানিয়েছন, নিজেদের তথ্য নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে আপলোড করতে পারেন ভোটাররা। তার পর ‘অথরাইজ়েশন লেটার’-সহ নিজের প্রতিনিধিকে পাঠাতে পারেন ERO অথবা AERO-র অফিসে। নিজের পরিবারের কাউকেও পাঠানো যেতে পারে, পাঠানো যেতে পারে এলাকায় সক্রিয় কোনও রাজনৈতিক দল দ্বারা নিযুক্ত BLA-কেও। তিনি বলেন, “ভোটারদের সুবিধার জন্যই এটা করা হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে শুনানিতে হাজির হতে অনেকেরই সমস্যা হতে পারে।” 

Continues below advertisement

পশ্চিমবঙ্গে SIR নিয়ে যে হয়রানি, হেনস্থার যে ভূরি ভূরি অভিযোগ সামনে এসেছে, সেই নিয়ে সম্প্রতি কড়া নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত জানিয়ে দেয়, সম্ভাব্য় ক্ষতিগ্রস্তরা নিজের অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে নথি বা আপত্তি জানাতে পারেন। ওই প্রতিনিধির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভোটারের স্বাক্ষর বা আঙুলের ছাপযুক্ত অনুমতিপত্র থাকতে হবে। এর পর পরই উত্তরপ্রদেশে SIR শুনানি নিয়ে এই নয়া সিদ্ধান্ত। উত্তরপ্রদেশে ১২ কোটি ৫৫ লক্ষের মধ্যে ৩ কোটি ২৬ লক্ষ মানুষকে শুনানির নোটিস পাঠানো হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। এই ৩ কোটি ২৬ লক্ষের মধ্যে ১.০৪ কোটির নাম ২০০৩ সালের তালিকার সঙ্গে ম্যাপ করা সম্ভব হয়নি। বাকি ২.২২ কোটির ক্ষেত্রে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’রক সমস্যা রয়েছে। 

২০০৩ সালের তালিকার সঙ্গে যাঁদের ম্যাপিং সম্ভব হয়নি, তাঁদের AERO এবং ERO-দের সামনে হাজিরা দিতে হবে। সেই মতো নথি জমা দিতে হবে, যার তালিকা আগেই প্রকাশ করা হয়েছে। ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’র ক্ষেত্রেও নোটিস পাঠানো হবে। উত্তরপ্রদেশের ভোটার তালিকায় যে ১৫ কোটি ৪৪ লক্ষ ভোটারের নাম ছিল, তাঁদের মধ্যে ১২ কোটি ৫৫ লক্ষের নাম রয়েছে খসড়া তালিকায়। গত ৬ জানুয়ারি খসড়া তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। আগামী ৬ মার্চ চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করার কথা তাদের।