নয়াদিল্লি : দিল্লির সফদরজং হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেন সোনম ওয়াংচুক। সেখান থেকেই দিলের ভিডিও বার্তা। জানালেন এরপর তিনি কোথায় যাবেন, কী করবেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও বার্তা দিয়ে সোনম ওয়াংচুক বলেছেন, 'সবাইকে নমস্কার। আজ সেই দিন, যেদিন হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাচ্ছি। অনেকটা ভাল আছি। খাবার খাচ্ছি। ধীরে ধীরে শরীরে শক্তি পাচ্ছি। আজ এখান থেকে বেরিয়ে লাদাখে বাড়ি ফেরার আগে রাজঘাটে বাপুকে (গান্ধীজি) শ্রদ্ধা জানাতে যাব। আপনাদের হয়তো মনে আছে, অনশন শুরু করার আগে যখন সুইৎজারল্যান্ড থেকে এসেছিলাম, তখন রাজঘাটে গিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি দিয়ে তারপর যন্তর মন্তর গিয়েছিলাম। আজ আবার সেটাই করব। এরপর লাদাখে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেব। যাওয়ার আগে সবাইকে অন্তর থেকে শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা। আপনারা সবাই... ছোট-বড়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সকলে আওয়াজ তুলেছেন, একটি আন্দোলন তৈরি হয়েছে, আমরা সফল হয়েছি। সবাই একসঙ্গে জুড়ে থাকবেন এই আশা করি। সকলকে ধন্যবাদ, নমস্কার, জয় হিন্দ।' 

Continues below advertisement

কীভাবে তাণ্ডব? পুলিশ ভ্যান থেকে ধৃতদের একে একে নামিয়ে, খালি পায়ে হাঁটিয়ে পুনর্নির্মাণ ধর্মতলায় 

Continues below advertisement

গত মে মাসে, মেডিক্যালের সর্বভারতীয় প্রবেশিকা NEET-এর প্রশ্ন-ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসে। তার জেরে পরীক্ষা বাতিল করে দেয় ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি। অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন প্রায় ২২ লক্ষ পরীক্ষার্থী। অভিযোগ, তার জেরে পরীক্ষার্খীদের আত্মহত্য়ার ঘটনাও ঘটে। নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হয়। দেওয়া হয় CBI তদন্তের নির্দেশ। আন্দোলনে নামে ককরোচ জনতা পার্টি বা CJP. NEET-কাণ্ডে বিক্ষোভের ঢেউ আছড়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। দাবি ওঠে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, দেশের শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং মৃত পড়ুয়াদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য দিতে হবে। ২০ জুন থেকে দিল্লির যন্তরমন্তরে আন্দোলন রূপ নেয় ধর্নায়। আন্দোলনকারী আরশোলাদের পাশে দাঁড়ায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ। শিক্ষাবিদ ও আন্তর্জাতিক খ্য়াতিসম্পন্ন পরিবেশ কর্মী সোনম ওয়াংচুক আন্দোলনের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানান এবং ২৮ জুন থেকে তিনি যন্তরমন্তরে শুরু করেন অনির্দিষ্টকালের অনশন। 

গত ১৮ জুলাই, যন্তর-মন্তর থেকে অনশনকারী সোনম ওয়াংচুককে জোর করে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনস্থ দিল্লি পুলিশ। ওয়াংচুককে জোর করে অনশনস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর আরও তীব্রতা পায় আন্দোলন। বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে দিল্লি, মুম্বই, কলকাতা, বেঙ্গালুরু, পুনে, হায়দরাবাদ-সহ একাধিক শহরে। শুক্রবার রাতে গুরুগ্রামের হাসপাতালে গিয়ে সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে কথা বলে তাঁর অনশন ভাঙান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং। আর শনিবার, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদে ইস্তফা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।