নয়া দিল্লি: স্পেনে ফের ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনা। দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৬৮-তে পৌঁছেছে বলে সাম্প্রতিক রিপোর্টে জানানো হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। দুর্ঘটনার পরেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মাদ্রিদ থেকে দক্ষিণ স্পেনের আন্দালুসিয়া পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রেল পরিষেবা। কীভাবে ঘটল এই দুর্ঘটনা, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।                                                        

Continues below advertisement

কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?

সংবাদমাধ্যম NDTV-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার, ২৮ অক্টোবর সকালে স্পেনের টলেডো প্রদেশে এই দুর্ঘটনা ঘটে। মাদ্রিদ থেকে সেভিয়া যাওয়ার উচ্চগতির রেলপথে একটি দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনের পিছনে ধাক্কা মারে অন্য একটি ট্রেন। সংঘর্ষের অভিঘাতে ট্রেনের কয়েকটি কামরা লাইনচ্যুত হয়ে পাশের ঢাল বেয়ে নীচে নেমে যায়। দুর্ঘটনার জেরে একাধিক কামরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

Continues below advertisement

দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল রাষ্ট্রায়ত্ত রেল সংস্থা Renfe-র একটি AVE দ্রুতগতির ট্রেন এবং Iryo সংস্থার আরেকটি ট্রেন। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, দুটি ট্রেনে মিলিয়ে প্রায় ৫৪৪ জন যাত্রী ছিলেন। ফলে দুর্ঘটনার পরেই ব্যাপক উদ্ধারকাজ শুরু হয়।                         

কেন ঘটল এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা?

দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে স্পেনের সংবাদমাধ্যমে রেললাইনের সিগন্যাল ব্যবস্থায় ত্রুটি এবং সম্ভাব্য মানবিক ভুলের বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায়নি।                                         

বন্ধ রেল পরিষেবা, উদ্বেগে যাত্রীরা

দুর্ঘটনার পর মাদ্রিদ, সিউদাদ রিয়াল এবং আন্দালুসিয়ার মধ্যে রেল পরিষেবা স্থগিত করা হয়। উদ্ধারকাজের পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুর্ঘটনার খবর সামনে আসার পর শোকপ্রকাশ করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য এবং উদ্ধারকাজের বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন তিনি।

উল্লেখ্য, স্পেনের উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্কে চলতি বছরেই এর আগে বড় দুর্ঘটনা ঘটেছিল। ফলে পরপর রেল দুর্ঘটনা সে দেশের রেল নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।