মাদ্রিদ:  স্পেনের কর্ডোবায় দুটি ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে মৃত্যু হল অন্তত ২১ জনের। আহত শতাধিক। তাদের মধ্যে ২৫ জনের অবস্থা গুরুতর। ইতিমধ্যেই, জোরকদমে নেমেছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাঁরা।  কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা

Continues below advertisement

সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, লাইনচ্যুত হয়ে সোজা পাশের ট্র্যাকে চলে যায় হাই-স্পিড ট্রেনটি। উল্টোদিক থেকে আসা আরেকটি ট্রেনে জোরে ধাক্কা মারে ট্রেনটিকে!  রবিবার সন্ধেবেলায়, মালাগা থেকে মাদ্রিদের উদ্দেশে আসছিল ওই হাই-স্পিড ট্রেনটি। ট্রেনে ছিলেন প্রায় ৩০০ যাত্রী। কর্ডোবা শহরের কাছে, লাইনচ্যুত হয়ে পাশের ট্র্যাকে চলে যায় সেটি। ওই ট্র্যাক দিয়েই মাদ্রিদের দিক থেকে আসছিল আরেকটি ট্রেন। সেইসময়ই মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় দুটি ট্রেনের। 

'সংঘর্ষের তীব্রতা ছিল প্রায় ভূমিকম্পের মতো'          

Continues below advertisement

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা গেছে, বেশ কয়েকটি বগি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিছু কামরা দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। অন্যগুলো ভেঙেচুরে একাকার । প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সংঘর্ষের তীব্রতা ছিল প্রায় ভূমিকম্পের মতো। কয়েকজন যাত্রী তবু জানালা ভেঙে বের হতে পেরেছেন। উদ্ধারকারীরা বেঁচে থাকা যাত্রীদের উদ্ধার করার সময়ও বেশ কয়েকজন আহত হন। ইউরো নিউজ সূত্রে খবর, প্রচণ্ড সংঘর্ষে আগুনও ধরে গিয়ে থাকতে পারে। বগির ভেতরে ধোঁয়া দেখা গিয়েছে।  

শোকে মুহ্যমান ট্রেন                 

রেড ক্রস কর্ডোবা থেকে একটি মেডিকেল অ্যাম্বুলেন্স এবং জায়েন থেকে আরও তিনটি অ্যাম্বুলেন্স পাঠিয়েছে। ইউরো নিউজ সূত্রে খবর, দুটি ট্রেনের যাত্রীদের উদ্ধারের জন্য সবরকম ব্যবস্থা করা হয়েছে। কর্ডোবার অগ্নিনির্বাপণ প্রধান ফ্রান্সিসকো কারমোনার কথায়, জীবিত মানুষগুলোর কাছে পৌঁছনোই কঠিন হয়ে পড়ছে। সেক্ষেত্রে মৃতদেহ সরিয়ে রেখে এগোনোর চেষ্টাও করতে হচ্ছে। এটা একেবারে দুঃস্বপ্নের মতো। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ তাঁর শোকবার্তায় বলেছেন, এই রাত স্পেনের কাছে  "গভীর বেদনার রাত"। মর্মান্তিক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সারা দেশ শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছে। 

দুর্ঘটনার পর মাদ্রিদ এবং আন্দালুসিয়ার মধ্যে সমস্ত রেল পরিষেবা স্থগিত করা হয়েছে এবং সোমবারও তা বন্ধ থাকবে। আটকে পড়া যাত্রীদের সহায়তার জন্য টার্মিনালগুলি রাতারাতি খোলা থাকবে বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর। তবে কী কারণে এমন বিপর্যয় ঘটে গেল, এখনও বুঝে উঠতে পারছে না রেল কর্তৃপক্ষ।