বেঙ্গালুরু:  কোভিড হানার পর থেকে চড়ছে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হওয়ার গ্রাফ। হৃদরোগের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না তরতাজা যুবক-যুবতীরাও। এরই মধ্যে একটি জেলায় পরপর মৃত্যু হল হার্ট অ্যাটাকে। কর্ণাটকের হাসান জেলায় হৃদরোগে মৃত্যুর সংখ্যা অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছেগত কয়েকদিনে । উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুর সংখ্যা। শুধু সোমবারই হার্ট অ্যাটাকে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এক জেলায়। পরিসংখ্যান বলছে, মাত্র ৪০ দিনে মোট ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে হার্ট অ্যাটাকে। আরও উদ্বেগের বিষয় হল, মৃতদের মধ্যে বেশির ভাগ   তরুণ-তরুণী।                

সোমবার জেপি নগর থেকে একটি মৃত্যুর খবর আসে। জানা যায়,  লেপাক্ষী বলে বছর পঞ্চাশের এক মহিলা হঠাৎ ক্লান্ত লাগছে বলতে বলতেই লুটিয়ে পড়েন মেঝেতে। তারপরই সব শেষ।  মাত্র  ৫৮ বছর বয়সে অধ্যাপক মুত্তাইয়া চা খেতে খেতে ঢলে পড়েন মৃত্যুর কোলে।  আবার চান্নারায়াপট্টনায় ৫৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তি, যিনি করণিকের কাজ করতেন, রবিবার বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। আতঙ্কের বিষয়, গত ৪০ দিনে কর্ণাটকের হাসানে ২১ জন নিহতের মধ্যে পাঁচজনের বয়স  ১৯ থেকে ২৫ এর মধ্যে। আটজনের বয়স  ২৫ থেকে ৪৫ এর মধ্যে। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে  বেশিরভাগই ৪৫ বছরের কম বয়সী । জেলা প্রশাসন রীতিমতো আতঙ্কিত এই পরিসংখ্যান দেখে। জেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের পরিসংখ্যান বলছে,গত দুই বছরে হাসানে ৫০৭ জন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন, যার মধ্যে ১৯০ জনই মারা গিয়েছেন।  হৃদরোগে মৃত্যু বিষয় যদিও নতুন কিছু নয়,তবে ভাবাচ্ছে  তরুণদের মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর এই আকস্মিক বৃদ্ধির প্রবণতাটি। 

রাজ্য সরকারও বিষয়টি নিয়ে ভাবিত। সরকার হাসান ও মহীশূরের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে বিষয়টিতে নজর দিতে বলেছে। মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া বলেছেন , সরকার মৃত্যুর ঘটনা যাচাই করবে এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ, হৃদরোগে আক্রান্তের হারে আকস্মিক বৃদ্ধি  উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেঙ্গালুরু এবং মহীশূরের জয়দেব হাসপাতালের ইমার্জেন্সি ওপিডিতে রোগীর সংখ্যা ২০% বৃদ্ধি পেয়েছে, যা রীতিমতো চিন্তার। আরও চিন্তার বিষয় হয়, তাদের অনেকেরই বয়স ৪৫ এর মধ্যে।