Continues below advertisement

এল নিনোর প্রভাবে একের পর এক শক্তিশালী ঝড় তৈরি হচ্ছে প্রশান্ত মহাসাগরের উপর।  প্রতিটি ঝড়ই ভয়ানক শক্তি সঞ্চয় করেই আঘাত হানবে স্থলভাগে। এমনটাই পূর্বাভাস আবহবিদদের। কিছুদিন আগেই পোলো নামের একটি হারিকেন আঘাত হেনেছিল মেক্সিকোয়। আর এবার নোলো ( Nolo ) নামের ঘূর্ণিঝড় ইতিমধ্যেই শক্তিশালী টাইফুনে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক তারিখরেখা পেরনোর পর বদলে গিয়েছে ঝড়টির পরিচয়ও। আগে যাকে হারিকেন ( Hurricane Nolo ) বলা হচ্ছিল, এখন সেটিই টাইফুন ( Typhoon Nolo ) নামে পরিচিত। ঝড়টির গতিবিধির দিকে নজর রাখছেন আবহবিদরা। আগামী কয়েকদিনে এটি পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে যেতে পারে। জাপানের দক্ষিণের সমুদ্রের দিকে এর গতিপথ ঘুরতে পারে বলে পূর্বাভাসে ইঙ্গিত রয়েছে। তবে আপাতত স্থলভাগে সরাসরি আঘাত হানার কোনও পূর্বাভাস নেই। 

আন্তর্জাতিক তারিখরেখা অতিক্রম করার আগে নোলো ( Nolo ) দ্রুত শক্তি বাড়িয়েছিল। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঝড়টির সর্বোচ্চ স্থায়ী  গতি প্রায় ২১৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল। অর্থাৎ, এটি অত্যন্ত শক্তিশালী টাইফুনের পর্যায়ে পৌঁছেছিল।  জাপানের আবহাওয়া সংস্থার বিশ্লেষণ অনুসারে, Nolo-র সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতি প্রায় ১৭৬ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা হতে পারে। তবে ধীরে ধীরে ঝড়টির শক্তি কমার পূর্বাভাসও রয়েছে।  

Continues below advertisement

অনেকেরই মনে হতে পারে Hurricane - এর থেকে Typhoon কী আলাদা ? না।  নাম বদলালেও আসলে ঝড়ের ধরনে কোনও বদল নয়।  বিষয়টি মূলত ভৌগোলিক অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্কিত।  উত্তর আটলান্টিক এবং মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী ট্রপিক্যাল সাইক্লোনকে সাধারণত হারিকেন বলা হয়। অন্যদিকে উত্তর-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে একই ধরনের ঝড়কেই বলা হয় টাইফুন। নোলো আন্তর্জাতিক তারিখরেখা বা ১৮০ ডিগ্রি দ্রাঘিমারেখা পেরিয়ে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ঢোকার পরই তার নামের সঙ্গে টাইফুন যুক্ত হয়েছে।  

নোলোর সম্ভাব্য গতিপথ আপাতত জাপানের দিকে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঝড়টি পশ্চিম দিকে এগিয়ে পরে ধীরে ধীরে উত্তর-পশ্চিম দিকে বাঁক নিতে পারে। ১০ অক্টোবরের আশপাশে জাপানের দক্ষিণের সমুদ্রের দিকে সিস্টেমটির অবস্থান হতে পারে, যদিও এত দূরের পূর্বাভাসে গতিপথে পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকে।  তবে এখনও পর্যন্ত জাপানের কোনও স্থলভাগে সরাসরি আছড়ে পড়ার পূর্বাভাস নেই। ফলে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি নজর সমুদ্রপথ এবং জাহাজ চলাচলের উপর।

শক্তিশালী ঝড়ের প্রভাবে প্রশান্ত মহাসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠতে পারে। ঝড়ের কেন্দ্রের আশপাশে প্রবল হাওয়া এবং বড় ঢেউ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে সমুদ্রে থাকা জাহাজগুলির জন্য পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। জাপান আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ঝড়ের আশপাশের এলাকায় প্রবল হাওয়া ও উত্তাল সমুদ্রের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

নোলোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এটি প্রশান্ত মহাসাগরের এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে শক্তিশালী অবস্থায় প্রবেশ করেছে। আবহবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নোলো দুর্বল হতে পারে। ফলে আগামী কয়েক দিনে এর শক্তি এবং গতিপথ কোন দিকে যায়, সেটাই এখন মূল নজরে।