কলকাতা: সুপ্রিম কোর্টের রায়ের সমালোচনা। বাড়ির লোককে ফোন করে বিচারপতির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন। সেই নিয়ে এবার কড়া বার্তা দিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। জানালেন, তাঁর রায় নিয়ে যেভাবে প্রশ্ন করা হয়েছে, তাতে অপরাধমূলক আদালত অবমাননার মামলা হতে পারে। সরাসরি আদালত অবমাননা নিয়ে সতর্কবার্তা দেন তিনি। জানান, দেশের বাইরে থেকেও কেউ যদি এমন আচরণ করেন, সেক্ষেত্রেও কী করণীয়, তা তিনি ভালই জানেন। (Supreme Court CJI Suryakant)

Continues below advertisement

মেডিক্যাল অ্যাডমিশন সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে এমন মন্তব্য করলেন CJI সূর্যকান্ত। একটি ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, "আমার ভাইকে কেউ একজন ফোন করেছিলেন। জানতে চান, কী করে অমন রায় দিলাম আমি। ওঁর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা হবে না কেন?"হরিয়ানা সরকারের কৌঁসুলির উদ্দেশে তিনি বলেন, "কত সাহস যে আমার ভাইকে ফোন করেন এবং প্রধান বিচারপতি কী করে অমন রায় দিলেন প্রশ্ন করেন। উনি আমাকে আইন বোঝাবেন? এটা দেখতে হবে আপনাকে। কৌঁসুলি হিসেবে সার আগে সরে দাঁড়াতে হবে আপনাকে।" (Supreme Court)

তবে সেখানেই থামেননি CJI সূর্যকান্ত। তিনি বলেন, "উনি ভারতের বাইরেও যদি লুকিয়ে থাকেন, ওই সব মানুষের সঙ্গে কী করা উচিত, তা জানি আমি। আর কখনও এমন চেষ্টা না করাই ভাল। গত ২৩ বছর ধরে এই ধরনের জিনিস সামলে আসছি আমি।"

Continues below advertisement

বৌদ্ধ সংখ্যালঘু কোটায় মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি নিয়ে একটি মামলার শুনানি চলাকালীন এই মন্তব্য করেন CJI সূর্যকান্ত। নিখিল কুমার পুনিয়া এবং একতা পুনিয়া নামের দুই ভাইবোন আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তাঁদের যুক্তি ছিল, আগে জেনারেল ক্যাটেগরিতে পড়লেও, বৌদ্ধ ধর্মে দীক্ষিত হওয়ার পর সংখ্যালঘু কোটার আওতায় প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্য তাঁদের। কিন্তু উত্তরপ্রদেশ সরকারের বিজ্ঞপ্তির জেরে মেরঠের Subharti Medical College-এ তাঁদের ভর্তি আটকে যায়, যা ন্যাশনাল কমিশন ফর মাইনরিটি এডুকেশনাল ইনস্টিটিউশন্স দ্বারা স্বীকৃত।

ওই মামলায় আবেদনকারীদের তীব্র সমালোচনা করে আদালত। তাঁরা সিস্টেমের অপব্যবহার করছেন বলে জানানো হয়। CJI সূর্যকান্ত বলেন, "এটা নতুন ধরনের জালিয়াতি। এর বেশি কিছু বলতে বাধ্য় করবেন না।" জাঠ সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়েও তাঁরা কী করে সংখ্যালঘুর শংসাপত্র পেলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এমনকি জেনারেল ক্যাটেগরিতে আবেদন করে আগে যে তাঁরা উতরোতে পারেনি, তাও তুলে ধরে আদালত।

নিখিল এবং একতার সমালোচনা করে CJI সূর্যকান্ত বলেন, "সংখ্যালঘুদের অধিকার ছিনিয়ে নিতে চান আপনারা। অথচ আপনারা অন্যতম সমৃদ্ধশালী সম্প্রদায়ের অংশ। নিজেদের মেধার উপর আস্থা রাখুন।" যে সময় নিখিল এবং একতা ধর্মান্তরিত হন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচিও। পরীক্ষার আগেই বেছে বেছে তাঁরা বৌদ্ধধর্মে দীক্ষিত হন বলে তুলে ধরেন। দেদার সংখ্যালঘু শংসাপত্র বিলি করা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিচারপতিরা। নিখিল এবং একতার আবেদন খারিজ হয়ে গিয়েছে। সংখ্যালঘু শংসাপত্র বিলি নিয়ে হরিয়ানা সরকারকে বিধিনিয়ম বেঁধে দিতে বলেছে আদালত। জানা গিয়েছে, নিখিল এবং একতার বাবা সূর্যকান্তের ভাইকে ফোন করে, সেই রায় নিয়ে প্রশ্ন করেন।