নয়াদিল্লি : কাউকে পাকিস্তানি বলে ঠাট্টা-তামাশা বা বিদ্রুপ করা অপরাধ নয়। একটি মামলার শুনানিতে পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, কাউকে ‘মিঞা’ বা ‘পাকিস্তানি’ বললে, তাকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের লাগার তকমা দেওয়া যাবে না। আর মামলা করাও যাবে না। তবে তা নিঃসন্দেহে শালীনতার পরিপন্থী। মিঞা’ বা ‘পাকিস্তানি’ বলে অপমান! বিচারপতি বিভি নাগারত্ন এবং বিচারপতি সতীশ চন্দ্র শর্মার বেঞ্চে এই সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানি ছিল। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, এ ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই যে, কাউকে ‘মিঞা বা পাকিস্তানি’ বলে অপমান করা অশালীনতা। তবে তা ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৯৮ ধারার আওতায় আসবে না। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্যে কিছু করার অভিযোগে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার এই ধারায় মামলা করা হয়। ঝাড়খণ্ডের বোকারোর বাসিন্দা আবেদনকারীর বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের হয়েছিল ২০২০ সালে । মামলাকারী ছিলেন একজন মুসলিম সরকারি কর্মচারী।
কীসের প্রেক্ষিতে এই মামলা ?২০২০ সালে বোকারো সেক্টর ৪ থানায় একটি এফআইআর দায়ের হয়। অভিযোগকারী ছিলেন আরটিআই বিভাগে কর্মরত একজন উর্দু অনুবাদক । তিনি সরকারি অফিসে করণিকের কাজ করতেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, সহকর্মী হরি নন্দন সিং 'পাকিস্তানি' বলে অপমান করেছেন। অতিরিক্ত কালেক্টরের নির্দেশে তিনি একটি মামলা সংক্রান্ত কিছু নথি তাঁর সহকর্মী হরিকে দিয়েছিলেন। তখনই তাঁর সঙ্গে তর্ক বিতর্ক হয়। অভিযোগ, তখনই ওই মুসলিম অনুবাদককে আরটিআই -এর আবেদনকারী ধর্মভিত্তিক মন্তব্য করে তাকে অপমান করে এবং উত্তেজিত করার চেষ্টা করেন , হুমকিও দেন।
এই ঘটনায় তিনি ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৩ (একজন সরকারি কর্মচারীকে তার কর্তব্য পালনে বাধা দেওয়ার চেষ্টায় বলপ্রয়োগ), ৫০৪ (শান্তি বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যে একজন ব্যক্তিকে অপমান করা) এবং ২৯৮ (ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্যে কথা বলা) ধারা আরোপ করে মামলা করে। অভিযুক্তের বয়স প্রায় ৮০ বছর। বোকারোর নিম্ন আদালত থেকে ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট পর্যন্ত কোথাও তিনি স্বস্তি পাননি। অবশেষে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছেন, এ ক্ষেত্রে বলপ্রয়োগ বা শান্তি ভঙ্গের ধারা আরোপের কোনও কারণ নেই। আর কাউকে 'মিঞা’ বা ‘পাকিস্তানি’ বলে অপমান করলে, ২৯৮ ধারা প্রয়োগ করা ঠিক নয়।