নয়াদিল্লি : তৃণমূল কংগ্রেসে বড়সড় ভাঙন এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। দিল্লিতে গোপন বৈঠকে বসেছেন তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা। অন্তত ২০ জন তৃণমূল সাংসদ আছেন এই গোপন বৈঠকে, এমনই খবর সূত্রের।

Continues below advertisement

বিদ্রোহী সাংসদদের মধ্যে আছেন প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়, অরূপ চক্রবর্তী। বিদ্রোহী সাংসদদের মধ্যে আছেন জগদীশ বাসুনিয়া, কালীপদ সোরেন, আবু তাহের, অসিত মাল, শর্মিলা সরকার, খলিলুর রহমানরাও, এমনই খবর সূত্রের।

বিস্তারিত...

Continues below advertisement

ইঙ্গিত মিলছিলই যে, যেদিকে এগোচ্ছে তৃণমূলের সংসদীয় দল, তাতে ভাঙন সময়ের অপেক্ষা। সুখেন্দুশেখর রায় প্রথম এটা জানিয়েছিলেন। যেহেতু তিনি লোকসভার অনেক সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছেন। যারা দলের মধ্যে থাকবেন না বলে পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের অনেকেই তাঁকে ঘন ঘন ফোন করেছিলেন। সেই থেকেই একটা আভাস পাওয়া যাচ্ছিল, যেভাবে বিভানসভায় পরিষদীয় দল ভেঙে গেছে, লোকসভা এবং রাজ্যসভায়ও তৃণমূলের যে সংসদীয় দল রয়েছে তা ভাঙা সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু, এত দ্রুত যে তা হবে তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল।

এই মুহূর্তে দিল্লিতে রয়েছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকাল কীর্তি আজাদ গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করে জানিয়েছিলেন, তিনি তাঁর পাশে রয়েছেন। বাকি সাংসদরা, এক ডজনেরও বেশি, তাঁরাও দিল্লিতে রয়েছেন। তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফোনও ধরেননি। তাঁর সঙ্গে দেখাও করতে যাননি। তাঁরা এই মুহূর্তে একজন তৃণমূল সাংসদের বাড়িতে গোপনে মিটিং করছেন। তাঁরা লোকসভা থেকে পদত্যাগ করবেন, নাকি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা যেহেতু তাঁদের কাছে রয়েছে, তাঁরা স্পিকারের কাছে গিয়ে পৃথক ব্লক বানাবেন লোকসভায়, সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁরা এই মুহূর্তে আলোচনা করছেন। আবার একটা সূত্র থেকে এমন খবরও উঠে আসছে যে, যেহেতু মুখ্যমন্ত্রী আজ দিল্লিতে আছেন, তাঁর সঙ্গে এই সাংসদরা দেখা করতে পারেন। তাঁরা কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন সেই সময় তাঁরা তা জানিয়ে দিতে পারেন। প্রসঙ্গত, আজ দিল্লিতে বিরোধী শিবিরের বৈঠকে যোগ দিতে গেছেন তৃণমূলনেত্রী। এই বৈঠকে রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ২৩টি দলের প্রতিনিধির বৈঠকে থাকার কথা রয়েছে। যদিও 'ইন্ডি' ব্লকের অন্যতম বড় শরিক ডিএমকে এই বৈঠকে যোগ দিচ্ছে না জানিয়েছে। জোটে ফাটল ধরিয়ে DMK এই বৈঠক থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নিয়েছে। এদিকে, দলে একের পর এক জনপ্রতিনিধির বিদ্রোহের আবহে কিছুক্ষণ আগেই তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন, এমনকী দল থেকেও পদত্যাগ করেছেন বলে জানিয়েছেন সুখেন্দুশেখর রায়।