ত্রিপুরা : ভয়ঙ্কর ! ভেঙে পড়ল নির্মীয়মাণ সেতু (Bridge Collapsed)। ঊনকোটি জেলার পাবিয়াছড়া-ফটিকরায় সংযোগকারী তেলিয়া-সুনাইমুড়ি সেতুটি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে হঠাৎই। সেতুটির কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৭ সালে। কিন্তু মাঝখানে দীর্ঘ দিন নকাজ বন্ধ ছিল। এরপর আবার টেন্ডার ডেকে কাজ শুরু হয়। বর্তমানে কলকাতার একটি সংস্থা পূর্ত দফতরের তত্ত্বাবধানে এই সেতু নির্মাণের দায়িত্বে আছে বলে খবর। তারই মাঝে এমন ভয়াবহ ঘটনা। মানুষের প্রশ্ন, এখনই এই হাল হলে , এই সেতু তৈরি হলে কী পরিণতি হবে ! প্রকল্পটির জন্য বরাদ্দ ৬ কোটিরও বেশি টাকা।
অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী
ঘটনার খবর পেয়ে বুধবার দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন। মন্ত্রীদের কাটমানি খাওয়ার খেসারত দিতে হয় মানুষকে, তারই ফল এই নিম্ন মানের কাজ! অভিযোগ সুদীপ রায় বর্মনের। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কংগ্রেসের আরও নেতা - কর্মীরাও। তাঁদের বক্তব্য অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে এই সেতু তৈরি হচ্ছিল। তাই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
কারা আছে সেতু তৈরির দায়িত্বে
৬ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে এই সেতু। কুমারঘাট পূর্ত দফতরের সার্কেল আধিকারিক রতিরঞ্জন দেবনাথ জানান, ২০১৭ সাল থেকে অশেষ দেবরায় নামে আগরতলার এক ঠিকাদার এই কাজটি পেয়েছিলেন, সরকার পরিবর্তনের পরে কাজটি বাতিল হয়। বর্তমানে কলকাতার তাতিয়া নামক একটি সংস্থা কাজটি করছে এবং দফতর নিয়মিত তদারকি করছে। এখন সেতু ভেঙে পড়ার দায় কার, তাই নিয়েই চলছে দায়-ঠেলাঠেলি। সেতু ভেঙে পড়ার ঘটনা কেন ঘটল, তা নিয়ে দ্রুত তদন্ত হোক, দোষীরা শাস্তি পাক, দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ত্রিপুরার সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যের পূর্ত দপ্তরের তরফে জানান হয়, এই স্প্যান নির্মাণের কাজ আগামী ২-৩ মাসের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইতিমধ্যেই ঐ এলাকায় কয়েকবার কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায়। ফলে নদীতে জলস্রোত বৃদ্ধি পেয়ে যায় এবং স্প্যান নির্মাণের সাটারিং ও সেন্টারিং ক্ষতিগ্রস্ত হয় যা পরবর্তীতে ভেঙে পড়ে। বর্তমানে রাজ্যে বিভিন্ন রাস্তায় এবং রেল ট্র্যাকের উপর প্রায় ৫০টির বেশী ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে গুণগত মান এবং সব পরিদর্শন করেই।
