পাকিস্তানকে যখন প্রত্যাঘাতে দুরমুশ করছিল ভারত, তখন পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছিল একমাত্র তুরস্ক। কোনও শক্তির প্রচ্ছন্ন সমর্থন যদিও বা থেকে থাকে, কিন্তু খুল্লামখুল্লা পাশে থেকেছে তুরস্কই। দোস্ত-পাকিস্তানকে সরাসরি অস্ত্র সরবরাহ করে সাহায্য করেছিল তুরস্ক। পাঠিয়েছিল সেগুলো ব্যবহারে সিদ্ধহস্ত সেনাও। এবার যখন পাকিস্তান আরও বিপাকে, এক্কেবারে কোণঠাসা, তখন তুরস্ক কলকাঠি নাড়া শুরু করল বাংলাদেশকে ব্যবহার করে। বাংলাদেশে বসে তুরস্ক সমর্থিত একটি এনজিও প্রকাশ করেছে এমন একটি মানচিত্র,যেখানে ভারতের অনেক জায়গাকেই ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের সীমানায়।  

গ্রেটার বাংলাদেশ'-এর মানচিত্রে কোন কোন রাজ্য 

বিতর্কিত মানচিত্রকে বলা হচ্ছে 'গ্রেটার বাংলাদেশ'-এর মানচিত্র।  ঢাকায় তুরস্ক সমর্থিত একটি এনজিও  এই কম্ম করেছে । আর তা এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল । সেই মানচিত্রে ভারতের পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকটি রাজ্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিতর্কিত 'গ্রেটার বাংলাদেশ'-এর মানচিত্রে মায়ানমারের আরাকান রাজ্য, ভারতের বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা এবং  পুরো উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ঢুকিয়ে নেওয়া হয়েছে। মানচিত্রটি ঢাকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচার করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, এই কর্মকাণ্ডের পিছনে তুরস্কের উদ্দেশ্য হল পাকিস্তানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভারতকে বিপাকে ফেলা। 

 ‘সালতানাত-এ-বাংলা’ কারা

সূত্রের খবর, তুরস্ক সমর্থিত একটি ইসলামী গোষ্ঠী বাংলাদেশে নিজেদের কর্মকাণ্ড বাড়ানোর জন্য এই কাজ করেছে বলে জানা গিয়েছে।  এনজিও-র ব্যানারে, তুরস্কের  সমর্থিত একটি ইসলামী গোষ্ঠী ‘সালতানাত-এ-বাংলা’র ব্যানারে ঢাকায় এসে এই সব কাজ করছে। তারাই ‘গ্রেটার বাংলাদেশ’এর মানচিত্র প্রকাশ করে ছড়িয়ে দিচ্ছে।  

‘সালতানাত-এ-বাংলা’ ইসলামী গোষ্ঠী এই তথাকথিত ‘গ্রেটার বাংলাদেশ’এর মানচিত্র ঢাকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ছাত্র ও যুবকদের কাছে তুলে ধরেছে বলে জানা গেছে। এটাও লক্ষণীয় যে, বাংলাদেশে মোহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন সরকারকে সমর্থনকারীরা আগেও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিকে বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

পাকিস্তানের মদতেই এতকিছু?           

উল্লেখ্য, গত বছর থেকে ঢাকায় মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধানকারী সরকার বাংলাদেশের ক্ষমতায়।  বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর থেকেই তুরস্ক বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর প্রস্তাবিত সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করছে বলে খবর।  শোনা যাচ্ছে, গত অগাস্টে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই,   বাংলাদেশ ও তুরস্ককে কাছাকাছি আনার ক্ষেত্রে পাকিস্তান বড় ভূমিকা পালন করেছে। যার পর থেকেই ঢাকায়  তুরস্কের এনজিওগুলোও দ্রুত সক্রিয় হয়ে উঠছে।