ভারত-পাক ( India Pakistan ) উত্তেজনার আবহে অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে আরও বেশি সতর্ক ভারত সরকার। পহেলগাঁও এর ঘটনার পরপরই ভারতে থাকা সব পাকনাগরিকদের দেশ ছাড়তে নির্দেশ দেয় ভারত সরকার। মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করে এই বিষয়ে বার্তা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ( Amit Shah )। সেই সঙ্গে বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ ও সীমান্ত রক্ষা বাহিনী তৎপর অবৈধভাবে প্রবেশ করা বাংলাদেশীদের ( Bangladesh ) ধরতেও। হাল আমলেই ভারত-নেপাল সীমান্ত লাগোয়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় এক বাংলাদেশের যুবককে। মহারাষ্ট্রে নভি মুম্বই থেকে গ্রেফতার করা হয় বাংলাদেশের ৫ জন নাগরিককে। আর এবার উত্তরপ্রদেশের তীর্থ-শহর থেকে ধরা হল একেবারে ৯০ জন বাংলাদেশীকে। নকল কাগজপত্র দিয়ে, ভারতের পরিচয় পত্র বানিয়ে একেবারে জাঁকিয়ে ঘর পেতেছিল তারা।
উত্তর প্রদেশের মথুরা। এ শহর কৃষ্ণপ্রেমীদের ভালবাসার ক্ষেত্র। আর সেখানেই বাংলাদেশ থেকে বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের আস্তানা। শুক্রবার মথুরা জেলা থেকে ভারতে অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগে ৯০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর। নৌঝিল থানার সীমানার খাজপুর গ্রামের স্থানীয় ইটভাটা থেকে তাদের আটক করা হয়েছে। জানিয়েছেন পুলিশকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, খবর পিটিআই সূত্রে।
ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনার আবহে বাংলাদেশের অনুপ্রবেশকারীদের ধরতে রাজ্যে রাজ্যে অভিযান আরও জোরদার হয়েছে। জেলা জুড়ে নিয়মিত তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এসএসপি শ্লোক কুমার বলেন, এমনই একটি অভিযানের সময়, পুলিশ স্থানীয় কিছু ইটভাটায় তল্লাশি চালায়। তখনই হাতেনাতে ধরা পড়ে যায় সেখানে কর্মরত বহু বাংলাদেশি নাগরিক। তাদের এই দেশে আসার কোনও বৈধ নথি নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্তা সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে জানায়, মোট ৩৫ জন পুরুষ, ২৭ জন মহিলা এবং ২৮ জন শিশুকে আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় জানা যায়, তাদের বৈধ কোনও কাগজপত্র নেই। তারা সকলেই ভারতে অবৈধভাবে বসবাসকারী । নিজেদের বাংলাদেশি নাগরিক বলে স্বীকারও করেছে তারা।
পুলিশ সূত্রে খবর, তারা তিন থেকে চার মাস আগে প্রতিবেশী এক রাজ্য হয়ে মথুরায় চলে এসেছিল। এসএসপি জানান, পুলিশ তাদের যোগসূত্র খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। কথা বলা হচ্ছে, তাদের কাজের ঠিকাদার এবং অন্যান্য সহযোগীদের সঙ্গেও। পিটিআই সূত্রে খবর, পুলিশ বাংলাদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে কিছু আধার কার্ডও উদ্ধার করে, যা সম্ভবত অন্য কোনও রাজ্যে জাল নথির ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছিল। তিনি জানান, আরও আইনি প্রক্রিয়া চলছে। শীঘ্রই জানা যাবে, কার হাত ধরে ভারতে ঢুকল তারা। কীভাবেই বা পেল কাজ। কোন সূত্রে , কোথা থেকে জাল নথি বানায় তারা।