একটা তরতাজা প্রাণ। ফিটফাট চেহারা। খেলোয়াড়ি অভিব্যক্তি। হঠাৎই মানুষটা লুটিয়ে পড়লেন ব্যাডমিন্টন কোর্টে। সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যু। সঙ্গে সঙ্গে ছুটে এলেন সহখেলোয়াড়রা। কিন্তু তখন আর করার কিছু নেই। ৫৮ বছর বয়সী সুধীর গুপ্তর আকস্মিক মৃত্যু (Sudden Cardiac Arrest) ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনাটি উত্তর প্রদেশের মাহোবা। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, ওই ব্যক্তি হঠাৎ করেই গুরুতর হৃদরোগে বা কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাই তিনি সঙ্গে সঙ্গে লুটিয়ে পড়েন কোর্টের মধ্যেই (Heart Attack Death)।
স্থানীয় সূত্রে খবর, ঘটনাটি ঘটে আচমকাই। আপাতভাবে সুস্থই ছিলেন ওই ব্যক্তি। তবে ভিতরে ভিতরে কোনও অসুস্থতা ছিল কি না জানা যায়নি। দু-এক বার খেলার পর তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন। দেখা যায়, হঠাৎই তাঁর পা টলে যায়। বুক ধরে কোনও ক্রমে তিনি সিটের দিকে এগনোর চেষ্টা করেন। আশপাশের লোকজন দ্রুত তাঁকে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু অঘটন ঘটে যায় তার আগেই। চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন (Heart Disease Awareness)।
চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের ঘটনা সাধারণত “সাডেন কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট” (Sudden Cardiac Arrest)-এর লক্ষণ। কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে হৃদযন্ত্র হঠাৎ করেই কাজ করা বন্ধ করে দেয়। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে যদি আগে থেকে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা কোলেস্টেরলের সমস্যা থাকে।
এ ধরনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং শরীরচর্চার উপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। পাশাপাশি, বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ক্লান্তি—এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। এই আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের সদস্যরা গভীরভাবে শোকাহত।
এই ধরনের ঘটনা যদিও আগেও ঘটেছে। হায়দরাবাদে গত জুলাই মাসে ব্যাডমিন্টন কোর্টে আকস্মিক মৃত্যু ঘটে এক তরুণের। নাগোলে স্টেডিয়ামে একটি ম্য়াচ খেলার সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় ২৫ বছর বয়সি তরুণ খেলোয়াড় গুন্ডলা রাকেশের। তাঁকে তড়িঘড়ি স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। একটি প্রাইভেট ফার্মে কাজ করতেন রাকেশ। সিসিটিভি ক্যামেরায় সেই ছবি ধরা পড়ে । খেলতে খেলতেই আচমকা লুটিয়ে পড়েন রাকেশ। দ্রুত সেখানে উপস্থিত সবাই ছুটে আসেন। দ্রুত তাঁকে সিপিআরও দেওয়া হয়। কিন্তু রাকেশ আর সাড়া দেননি। সাম্প্রতিক সময়ে ২০-২৫ বছরের থেকে ৩৫-৪০ বছরের যুবক যুবতীর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা বেড়েছে।
