ফের একটা হড়পা বান। কার্যত জলের তোড়ে ধুয়ে গেল ২০ টা প্রাণ। এবার ধাক্কা মার্কিন মুলুকে। গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন ন্যাশনাল পার্কে ভয়াবহ হড়পা বানে নিখোঁজ হয়ে গেলেন ২০ জনেরও বেশি মানুষ। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস সূত্রে খবর, এই আকস্মিক বন্যায় ভেসে গিয়েছে এলাকার ধাতব কাঠামো। বড় বড় পাথর।
প্রবল জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে একাধিক ফুটব্রিজ। বড় বড় পাথর, ধাতব কাঠামো-সহ নানা ধরনের ধ্বংসাবশেষ ভেসে গিয়ে পড়েছে কলোরাডো নদীতে। এই ঘটনায় নিখোঁজ ২০ জনেরও বেশি মানুষের এখনও কোনও খোঁজ নেই। স্থানীয় সময়, শনিবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ কলোরাডো নদীর সঙ্গে মিলিত হওয়া ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্রিকে আচমকাই আসে হড়পা বাণ। মুহূর্তের মধ্যে বাড়তে থাকে জল। ফুলে ফেঁপে ওঠে স্রোত। রাক্ষুসে গতি তছনছ করে ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যানিয়ন এবং ফ্যান্টম র্যাঞ্চ এলাকা।
প্রবল স্রোতের অভিঘাতে ফুটব্রিজগুলিও খেলনার মতো ভেসে যায়। ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, বন্যার জেরে খালের তলদেশ অনেকটাই চওড়া হয়ে গিয়েছে। সেই সঙ্গে কলোরাডো নদীর মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন একটি খরস্রোত। বন্যার জলের সঙ্গে বড় বড় পাথর, ধাতব কাঠামো ভেসে যায়। ফলে ওই এলাকায় থাকা পর্যটক ও পর্বতারোহীদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগে সকলেই।
বন্যার পরই তড়িঘড়ি শুরু হল উদ্ধারকাজ। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়। রবিবার সকাল পর্যন্ত ফ্যান্টম র্যাঞ্চ এলাকা থেকে ৬২ জনকে সরিয়ে নেওয়া হয়। ওই এলাকায় একটি ক্যান্টিন ও থাকার জায়গা রয়েছে। কলোরাডো নদীতে অনেকেই রাফটিং করেন। তবে এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ২০ জন নিখোঁজ। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস জানিয়েছে, সোমবার পর্যন্ত আরও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে নতুন করে আকস্মিক বন্যা, স্রোত এবং পাহাড়ি পাথর ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখতে রবিবার গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের একাধিক জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা বন্ধ রাখা হয়। ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যাম্পগ্রাউন্ড, ফ্যান্টম র্যাঞ্চ এবং নর্থ কাইবাব ট্রেলের কিছু অংশ আপাতত পর্যটকদের জন্য বন্ধ ।
