নয়া দিল্লি: গতকালই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট (US President Donald Trump) জানিয়েছিলেন ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষবিরতি ঘোষণা হওয়ার কথা। একই সঙ্গে জানা গিয়েছিল মোট ১০ দফা দাবি আমেরিকার কাছে পাঠিয়েছে তারা। সেই দাবি অনুযায়ী একাধিক স্বীকৃতি চেয়েছিল ইরান। এর মধ্যে প্রধান ছিল আমেরিকার আগ্রাসন বন্ধের দাবি ও হরমুজের নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে থাকার দাবি।
যদিও হোয়াইট হাউস একটি প্রেস বিবৃতি দিয়েছে এই বিষয়ে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এই বিষয়ে বলেছেন। তিনি বলেন, "ইরান হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে সম্মত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট (US President Donald Trump) যেমন জানিয়েছেন, আমরা ইরানের কাছ থেকে একটা প্রস্তাব পেয়েছি। এই প্রস্তাব ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য একটা ভিত্তি হিসাব দেখা হচ্ছে আমাদের তরফে। ইরান ইতিমধ্যেই একটা ১০ দফা পরিকল্পনা পেশ করেছিল। যে পরিকল্পনা মৌলিকভাবে গুরুত্বহীন। এই পরিকল্পনা গ্রহণ করা যায় না ও এই পরিকল্পনাকে সম্পূর্ণরূপে বাতিল করা হয়ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (US President Donald Trump) ও তাঁর পরিষদবর্গ এই পরিকল্পনাকে আবর্জনার স্তূপে ফেলে দিয়েছেন।"
কী কী ছিল ইরানের ১০ দফা দাবিতে?
- আমেরিকার তরফে ভবিষ্যতে ইরানে আর কোনও আগ্রাসন চালানো হবে না।
- হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতেই থাকবে।
- ইরানের পারমাণবিক শক্তি ও এই বিষয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা মেনে নিতে হবে।
- ইরানের উপর থেকে সমস্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে।
- রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের ইরান বিরোধী সব প্রস্তাব বাতিল করতে হবে।
- IAEA বোর্ড অফ গভর্নরসের ইরান বিরোধী প্রস্তাব বাতিল করতে হবে।
- ইরানকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
- ইরান থেকে আমেরিকার সেনা প্রত্যাহার করতে হবে।
- ইরানের বিরুদ্ধে সমস্ত ধরনের হামলা বন্ধ করতে হবে।
এরপর লেবাননে হামলা করে ইজরায়েল। এই হামলার ঘটনায় প্রায় ২৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর এর উপর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরঘচি। তিনি লিখেছেন, "আমেরিকাকে বেছে নিতে হবে হয় সংঘর্ষবিরতি বা ইজরায়েলের মাধ্যমে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া। এই দুটো একসঙ্গে চলতে পারে না।" একই সঙ্গে তিনি এটাও বলেছেন, গোটা বিশ্ব এই মুহূর্তে দেখছে যে আমেরিকা এখন তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করে কি না। যদিও ইরানের ইসলামিক রেভেলিউশনারি গার্ড কর (IRGC) এদিন দাবি করেছে যে লেবাননে ইজরায়েলের হামলার কারণে লঙ্ঘিত হয়েছে সংঘর্ষবিরতি। আর এর ফলে হরমুজ দিয়ে আপাতত বন্ধ রয়েছে জাহাজ চলাচল।
