কলকাতা: ১৬তম দিনে পড়ল ইরানের সঙ্গে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যুদ্ধ। আঘাত-প্রত্যাঘাত নিয়ে পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক সংঘাত মেটার কোনও লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না।

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, এই দেশগুলি ছাড়া বিশ্বের সবার খুলে দেওয়া হল হরমুজ প্রণালী ! বড় ঘোষণা ইরানের

Continues below advertisement

একদিকে, 'অপারেশন এপিক ফিউরি'র আওতায় রাতের অভিযানে উড়ান শুরু করেছে আমেরিকার 'B-52 স্ট্র্যাটোফরট্রেস'। লেবাননের রাজধানী বেইরুটে বিল্ডিং লক্ষ্য করে এয়ার স্ট্রাইক চালিয়েছে ইজরায়েল। পরে আগুন ধরে যেতে দেখা যায় ওই বিল্ডিংয়ে। পাল্টা ইজরায়েল অধিকৃত অঞ্চলে লাগাতার গোলাবর্ষণ করে চলেছে ইরান। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরে ইজরায়েলের রামলা শহরে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। ইরাকে অবস্থিত আমেরিকার সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়েছে।

 পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ থামার তো কোনও লক্ষ্মণ নেই, উল্টে আরও ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। একদিকে যখন ইরানের উপর লাগাতার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে আমেরিকা-ইজরায়েল। অন্যদিকে তখন প্রত্যাঘাত জারি রেখেছে ইরানও। সব মিলিয়ে যুদ্ধ যে এখনও থামার নয়, তা বুঝিয়ে দিচ্ছে উভয়পক্ষই। আমেরিকা যে আপাতত কোনওভাবেই ইরানের সঙ্গে সমঝোতার পথে হাঁটবে না, ফের তা বুঝিয়ে দিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি ট্রাম্প বলেছিলেন, এই যুদ্ধ চার সপ্তাহ চলতে পারে। কিন্তু ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডসের তরফে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তারা এই যুদ্ধ ৬ মাস পর্যন্ত চালিয়ে যেতে পারে। এমনকী হামলার চালানোর জন্য প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলির কাছে ক্ষমা চেয়েও, কথা রাখেনি ইরান। শনিবার তাদের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছিলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের কোনও শত্রুতা ও বিদ্বেষ নেই। যা হয়েছে, সেই অনাকাঙ্খিত ঘটনার জন্য আমরা ক্ষমাপ্রার্থী। অন্য কোনও দেশ দখল বা আক্রমণ করার কোনও ইচ্ছা ইরানের নেই। কিন্তু এরপর নিজের দেশেই প্রবল চাপের মুখে পড়ে 'ক্ষমা' শব্দটি সরিয়ে দিয়ে এক্স হ্যান্ডলে ইরান প্রেসিডেন্ট লেখেন, ইরানের উপর হামলা হলে, চুপ করে থাকব না। প্রত্যাঘাত হবেই। এরপর বাহরিনের মানামায় আমেরিকার নৌসেনার পঞ্চম ফ্লিটের সদর দফতরে হামলা চালিয়েছে ইরান। অন্যদিকে ইরানের একের পর এক তেল ভাণ্ডারে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে আমেরিকা। পশ্চিম এশিয়ায় তাদের তৃতীয় এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার 'জর্জ এইচ ডব্লুু বুশ'-কে মোতায়েন করতে চলেছে আমেরিকা।শুধু তাই নয়, অ্যাক্সিওস ও সেমাফরের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ইরানে মজুত ইউরেনিয়াম সংরক্ষণ করতে বিশেষ বাহিনী পাঠাতে আলোচনা চালাচ্ছে আমেরিকা ও ইজরায়েল।তবে এই যুদ্ধের মধ্যেই গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছে দক্ষিণ ইরানের মিনাবে একটি স্কুল ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ঘটনা। যেখানে স্কুল পড়ুয়া ও শিক্ষক মিলিয়ে দেড়শো জনেরও বেশি মৃত্যু হয়েছে।এবার সেই হামলার দায় ইরানের দিকেই ঠেললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।