নয়াদিল্লি: আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যু ঘিরে উত্তপ্ত পাকিস্তান। এমন পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদে ভিসা সংক্রান্ত কাজকর্ম আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিল আমেরিকা। বর্তমানে পাকিস্তানে নিরাপত্তার যা পরিস্থিতি, তা পর্যবেক্ষণ করেই এমন সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছে সেখানে আমেরিকার দূতাবাস। শুধু ইসলামাবাদই নয়, লাহৌর এবং করাচিতেও পরিষেবা আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমেরিকা। (US Embassy in Pakistan)

Continues below advertisement

আপাতত ৬ মার্চ পর্যন্ত পাকিস্তানে ভিসা পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমেরিকা। পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে বলে জানানো হয়েছে। আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের হামলায় ইরানে খামেনেইয়ের মৃত্যুর পরই তপ্ত হয়ে ওঠে পাকিস্তান। রবিবার করাচিতে আমেরিকার কনস্যুলেট ঘেরাও করেন দলে দলে মানুষজন। সেখানে বিক্ষোভকারীদের উপর গুলি চালানো হয়, যাতে কমপক্ষে ১০ জনের মৃত্য়ু হয়। (Pakistan Situation)

সংবাদ সংস্থা রয়টার্স আমেরিকার আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, করাচিতে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করায় আমেরিকার মেরিন বাহিনীরও হাত ছিল। আমেরিকার দুই আধিকারিক রয়টার্সে জানিয়েছেন, কনস্যুলেটের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী এবং স্থানীয় পুলিশ গুলি চালিয়েছে কি না, তা জানা নেই তাঁদের।

Continues below advertisement

আমেরিকার ওই দুই আধিকারিকের বক্তব্য সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। কারণ সাধারণত দূতাবাস, কনস্যুলেটের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলির দায়িত্বে থাবে বেসরকারি সংস্থা। তাই মেরিন বাহিনীর হস্তক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোন পরিস্থিতিতে তাদের গুলি চালাতে হল, সেই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় প্রশাসনের মুখপাত্র সুখদেব আশারদাস হেমনানিও। কেন বিক্ষোভকারীদের অবস্থান কেন জানতে চাওয়া হল না, প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

করাচি পুলিশের তরফে রয়টার্সকে জানিয়েছে, কনস্যুলেটের ভিতর থেকে গুলি ছোড়া হয় বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য় করে। আমেরিকার বিদেশ বিভাগ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি এ নিয়ে।। 

ইরানের পর পাকিস্তানেই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক শিয়া মুসলিম রয়েছেন। খামেনেইয়ের মৃত্যুতে তাই পরিস্থিতিত তেতে উঠেছে সেখানকার। এই আবহে সমস্ত রকমের জমায়েত নিষিদ্ধ করেছে পাকিস্তান। এখনও পর্যন্ত প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, খামেনেইয়ের মৃত্যু নিয়ে বিক্ষোভে শামিল হয়ে সবমিলিয়ে ২৬ জন মারা গিয়েছেন পাকিস্তানে। 

রবিবারও অশান্ত ছিল পাকিস্তান। জায়গায় জায়গায় আমেরিকার বিরুদ্ধে রাস্তায় নামেন মানুষজন। স্লোগান ওঠে, 'আমেরিকা নিপাত যাক', 'ইজ়রায়েল নাপাত যাক'। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায় পুলিশ। পাশাপাশি, বিক্ষোভের মধ্যে কারও কারও হাতে অস্ত্র ছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। কনস্যুলেটের দিকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করা হয় বলে অভিযোগ।