ওয়াশিংটন: ভারত ও চিনের মধ্যে মধ্যস্থতা করেছেন বলে বার বার দাবি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমেরিকার আদালতে এবার সেই মর্মে হলফনামা জমা দিল তাঁর সরকার। ট্রাম্পের শুল্কনীতির বিরোধিতা করে আদালতে আবেদন জমা পড়েছিল। সেই নিয়ে সওয়াল করতে গিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতিকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হল। ওই শুল্কনীতিকে হাতিয়ার করেই ট্রাম্প ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘটিয়েছেন বলে জানানো হল আদালতে।  (Donald Trump)

দ্বিতীয় বার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর শুল্কের পাল্টা শুল্ক নীতি চালু করেন ট্রাম্প। ভারত, চিন-সহ তাবড় দেশের সঙ্গে সেই নিয়ে কার্যত যুদ্ধের আবহ তৈরি হয়। আপাতত বিরতিপর্ব চললেও, শীঘ্রই ফের পরিস্থিতি ঘোরাল হতে পারে, বিশ্বব্যাপী ব্যবসা-বাণিজ্যের উপর এই ‘শুল্কযুদ্ধে’র প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা। (India-Pakistan Conflict)

সেই নিয়ে US Court of International Trade-এ ব্যবসায়ীদের একটি সংগঠন মামলা করে। কিন্তু হোয়াইট হাউস আধিকারিকরা যে হলফনামা জমা দিয়েছেন আদালতে, তাতে ট্রাম্পের শুল্কনীতিকে কার্যত ‘জিয়নকাঠি’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ট্রাম্পের এই শুল্কনীতির দৌলতেই কৌশলগত ভাবে আমেরিকার অবস্থান মজবুত করেছে। এই শুল্কনীতি আমেরিকার কূটনৈতিক হাতিয়ারও হয়ে উঠেছে। নিজের শর্তে বাণিজ্যচুক্তি করতে সফল হচ্ছে আমেরিকা। তাই শুল্কনীতিতে এদিক ওদিক হলে আমেরিকা দুর্বল হয়ে পড়বে। 

ট্রাম্প সরকারের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার, বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লাটনিক, ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট এবং বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, তাঁরা এই শুল্কনীতির পক্ষে। এতে আমেরিকার অর্থনৈতিক শক্তিবৃদ্ধি হয়েছে যেমন, এই শুল্কনীতিকে সামনে রেখেই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছে। 

আদালতে লাটনিক বলেন, “পুরোদস্তুর যুদ্ধ এড়াতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মধ্যস্থতা করেন।  দুই দেশকে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যের প্রস্তাব দেন তিনি। তার দরুণই এই যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছে। আদালতের রায়ে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সীমিত হয়ে গেলে ভারত ও পাকিস্তান ট্রাম্পের বাণিজ্য প্রস্তাবের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। এর দরুণ ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে, লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।” এমনকি এই শুল্কনীতি ব্যবহার করেই যে ট্রাম্প চিনকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করেছেন, সেকথাও আদালতে জানান লাটনিক। 

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বৈরিতা নয়া আকার ধারণ করে। পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ঢুকে জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করে ভারত। সেই নিয়ে একেবারে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়। ভারতের আকাশে প্রবেশ করে পাক বায়ুসেনার যুদ্ধবিমান ও ড্রোন। ভারতীয় বায়ুসেনা উপযুক্ত জবাব দেয় তাদের। 

সেই পরিস্থিতিতেই দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেন ট্রাম্প। ব্যবসা-বাণিজ্যের দোহাই দিয়ে দুই দেশকে তিনি নিরস্ত করেছেন বলে দাবি করেন। একবার নয়, একাধিক বার ট্রাম্পের মুখে একই কথা শোনা যায়। পাকিস্তান ট্রাম্পের সেই দাবি অস্বীকার না করলেও, ভারত জানিয়েছে, পারস্পরিক সম্মতিতেই যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে ভারত ও পাকিস্তান। কোনও তৃতীয় পক্ষ মাঝখানে ছিল না।