নয়াদিল্লি: নয় নয় করে পঞ্চম দিনে পড়ল আমেরিকা-ইজ়রায়েল বনাম ইরানের যুদ্ধ। হামলা, পাল্টা হামলায় জ্বলছে গোটা পশ্চিম এশিয়া। ইরানের বুকে প্রায় ২০০০ হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি আমেরিকার। সাবমেরিন-সহ ইরানের ১৭টি জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা। পাল্টা হামলায় উপসাগরীয় দেশগুলিতে আমেরিকার ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরানও। চারদিনের যুদ্ধে এখনও পর্যন্ত পশ্চিম এশিয়ায় কত সম্পত্তিহানি হয়েছে আমেরিকার, কত টাকার ক্ষতি হয়েছে, তা নিয়ে যে তথ্য সামনে এসেছে, তা চমকে ওঠার মতো। (US-Iran War)

Continues below advertisement

জানা গিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামার প্রথম ২৪ ঘণ্টাতেই ৭৭৯ মিলিয়ন ডলার খরচ হয় আমেরিকার, ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৬ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। Center for New American Security জানিয়েছে, শুধুমাত্র যুদ্ধবিমান বহনকারী জাহাজ সক্রিয় রাখতেই দৈনিক ৬.৫ মিলিয়ন ডলার খরচ হচ্ছে, ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৫৮ কোটি টাকা। পশ্চিম এশিয়ায় দু’টি ক্যারিয়ার মোতায়েন রয়েছে আমেরিকার। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালাতে নামানো হয় বিমান, জাহাজ। সব মিলিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগেই খরচ হয় ৫ হাজার ৫৫৬ কোটি টাকা। (US War Spending)

ট্রাম্প জানিয়েছেন, এক মাসের বেশিও চলতে পারে যুদ্ধ, প্রয়োজনে সারাজীবন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারে আমেরিকা। Penn Wharton Budget Model-এর ডিরেক্টর তথা অর্থনৈতিক বিশ্লেষক কেন্ট স্মেটার্স মনে করছেন, যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হলে ২১০ বিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে আমেরিকার, ভারতীয় মুদ্রায় যা ১৮.৮৭ লক্ষ কোটি টাকা। এই মুহূর্তে ইরানে যুদ্ধ চালাতে গিয়ে দৈনিক ৫৯.৩৯ মিলিয়ন ডলার খরচ হচ্ছে আমেরিকার, ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৫৩৭.৩৭ কোটি টাকা। (US War Spending)

Continues below advertisement

রবিবার কুয়েতে আমেরিকার সেনাঘাঁটিতে হামলা চালায় ইরান, যাতে আমেরিকার ছয় সৈনিক মারা যান। এর মধ্যে চার জনকে শনাক্ত করা গিয়েছে এখনও পর্যন্ত, ক্যাপ্টেন কোডি খর্ক (৩৫), সার্জেন্ট নোয়া টিটজেন্স (৪২), সার্জেন্ট নিকল আমোর (৩৯), সার্জেন্ট ডিক্ল্যান কোয়াডি (২০)।

গত চার দিনে পশ্চিম এশিয়ায় একাধিক সম্পত্তিহানিও হয়েছে আমেরিকার। বাহরাইনের মানামায় আমেরিকার নৌবাহিনীর ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে ইরান। রেডার ব্যবস্থা, যোগাযোগের মাধ্যম, সব নষ্ট হয়ে গিয়েছে। স্যাটেলাইটের তোলা ছবিতে ধ্বংসাবশেষ ধরা পড়েছে। সেখানে ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন হামলাও চালানো হয় বলে অভিযোগ। 

কুয়েতে আমেরিকার বায়ুসেনা ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান। স্যাটেলাইটের তোলা ছবিতে দেখা গিয়েছে, ড্রোন শেল্টারগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গুঁড়িয়ে গিয়েছে একাধিক ভবন। সেখানে আমেরিকার সেনা মোতায়েন ছিল যেমন, ছিল বিমানও। একটি ক্ষতিগ্রস্ত ইউরোফাইটার জেট দেখা গিয়েছে। সেটি আমেরিকা ব্যবহার করত না, কুয়েত করত।

নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, কুয়েতে আমেরিকার মোট তিনটি ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান। বাহরাইন, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতেও হামলা চালানো হয়। সেই তালিকায় রয়েছে নৌবাহিনীর সদর দফতর আমেরিকার সেনা শিবির, বায়ুসেনা ঘাঁটি, নৌবাহিনীর রিক্রিয়েশনাল সেন্টার। 

কুয়েতে ক্যাম্প বুয়েরিংয়ের উপর ড্রোন ঘুরতে দেখা গিয়েছিল। সেই ড্রোনে বোমা বাঁধা ছিল, যা থেকে তীব্র শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। সেখানে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, এখনও স্পষ্ট ভাবে জানা যায়নি। 

ইরাকের এরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আমেরিকার সেনাঘাঁটিতেও হামলা চালায় ইরান। সেখানে আগুন এবং ধোঁয়া চোখে পড়ে। স্যাটেলাইটের তোলা ছবিতে দেখা য়ায়, চারটি ভবন গুঁড়িয়ে গিয়েছে।একদিন পরও সেখানে আগুন জ্বলছিল। 

দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দরে আমেরিকার নৌবাহিনীর রিক্রিয়েশনাল সেন্টার রয়েছে। সেখান থেকেও ধোঁয়া আকাশ ছুঁতে দেখা গিয়েছে। সেটি আমেরিকার ঘাঁটি না হলেও, আমেরিকার নৌবাহিনীর ব্যস্ততম বন্দর। 

কাতারের আল-উদেইদ বায়ুসেনা ঘাঁটিতেও হামলা চালায় ইরান। স্যাটেলাইটের তোলা ছবিতে পোড়া অংশ এবং ধ্বংসাবশেষ চোখে পড়ে। 

এর পাশাপাশি, হামাসের বিরুদ্ধে ইজ়রায়েলের যুদ্ধেও প্রচুর খরচ হয়েছে আমেরিকার। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে হামাস এবং ইজ়রায়েলের মধ্যে যুদ্ধ চলছে, যাতে ১২০০ জন মারা গিয়েছেন, পণবন্দি হয়েছেন ২৫১ জন। ইজ়রায়েলকে ২১.৭ বিলিয়ন ডলার সাহায্য় জুগিয়েছে আমেরিকা। পাশাপাশি, ইয়েমেন, ইরান এবং পশ্চিম এশিয়ার অন্যত্র অভিযান চালাতেও সাহাজ্য় জুগিয়েছে, যাতে ৯.৬৫ থেকে ১২.০৭ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ২০২৫ সালের রিপোর্ট বলছে, ২০২৩ থেকে এখনও পর্যন্ত যুদ্ধবাবদ আমেরিকার খরচ হয়েছে ২.৮২ থেকে ৩.০৪ লক্ষ কোটি টাকা।